গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পেনশন পুনঃস্থাপন এবং নিয়মিত মাসিক পেনশন চালুর দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন। মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল থেকে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কয়েকশ সাবেক কর্মকর্তা অংশ নেন।
মানববন্ধন থেকে অভিযোগ করা হয়, চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অনেককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে পেনশন সংক্রান্ত প্রাপ্য সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত। অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা জানান, ২০০৪ ও ২০১৬ সালের সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তাদের পাওনা সুবিধা বাস্তবায়নের দাবি বহুদিন ধরে জানিয়ে আসলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এই কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানানো হলেও বিষয়টির সমাধান হয়নি। তারা আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের চাকরিজীবনের পরও চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা এবং মাসিক পেনশনের মতো মৌলিক সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা ও এর ইতিহাসও আলোচনায় আসে কর্মসূচিতে। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংক ও এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। ব্যাংকের দীর্ঘ সময় ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে থাকা ইউনূস পরবর্তীতে নানা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে আলোচনায় আসেন।
অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের সংগঠন “গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ” এর সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা বছরের পর বছর ধরে ন্যায্য দাবি জানিয়ে আসছি। এখন আর অপেক্ষা করার সুযোগ নেই। দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।”
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাবেক কর্মকর্তারা জানান, তারা তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছেন। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
এদিকে মানববন্ধন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। তবে কর্মসূচিতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা পেনশন ও অবসর সুবিধার বিষয়টি সমাধান না হলে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে। এতে আর্থিক খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক অসন্তোষের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।