কিশোরগঞ্জের হাওরে ধান নিয়ে বিপাকে কৃষকরা

এফএনএস (মহিউদ্দিন লিটন; হাওর অঞ্চল, কিশোরগঞ্জ) :
| আপডেট: ৫ মে, ২০২৬, ০৫:২১ পিএম | প্রকাশ: ৫ মে, ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
কিশোরগঞ্জের হাওরে ধান নিয়ে বিপাকে কৃষকরা

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর, নিকলী, কুলিয়ারচরের একাংশ, অষ্টগ্রাম, মিঠামইন ও ইটনার বিভিন্ন হাওরে ইরি বোরো ধানের জমিতে পানি প্রবেশ করে হাজার হাজার জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব হাওরে কৃষকের ধান গজে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। প্রতি একর পাঁকার ধানের জমি হারবেষ্টার মেশিন দিয়ে কাটতে লাগে কৃষকের ১৪-১৫ হাজার টাকা। এছাড়া হারবেষ্টার মেশিন ছাড়াও যেসকল জমি হাঁটু পানি অথবা এর চেয়ে বেশি পানি হয়েছে সেসকল জমিতে প্রতি একর কামলা দিয়ে কাটতে ১২০০-১৫০০ টাকা লাগছে। কৃষক প্রতিমন ধান ৭০০-৮০০ টাকা বিক্রি করতে গিয়ে তাদের এখন ঋণগ্রস্থ হতে হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের দিকে বাজিতপুর, নিকলী ও অষ্টগ্রাম হাওরে ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকের শরীর এখন ভালো নেই। মধ্যস্বত্ব্য ভোগীদের অথবা দালাল, বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ এনে হাওরের অধিকাংশ কৃষক তাদের শেষ স্বপ্ন ছিল ধান ভালো হবে, ফসল ঘরে নিয়ে আসবে সেই স্বপ্নই গুনছিল। কৃষকের সেই স্বপ্ন যেন আজ স্বপ্নই থেকে গেলো। ঋণের বোঝা মাথায় থেকে আরো চরম অবস্থায় উঠে পড়েছে বলে অনেক কৃষক সংবাদ কর্মীদের জানিয়েছেন। এর মধ্যেই বাজিতপুর উপজেলার মাইজচর ইউনিয়নের আয়নারগোপ গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেনসহ অর্ধ-শতাধিক কৃষক গতকাল বলেন, তাদের অনেক জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। টানের জমিগুলো কাটতে গিয়ে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা একর প্রতি লাগছে। এখন এছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই। তারা আরো বলেন, গত কয়েক বছর ইরি বোরো ধান চাষ করে লাভবান হয়েছেন। কিন্তু এবার তাদের নিজেরা কি খাবে, সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাতে হবে। ঋণের বোঝা এখন উচ্চ হারে লেগেছে। সরকার যদি তাদেরকে না দেখেন তাহলে তাদের চলার কোনো উপায় নেই বলে উল্লেখ করেন। বাজিতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম এ প্রতিনিধিকে বলেন, বাজিতপুরের হাওরে অতিবৃষ্টির কারণে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে