লিবিয়ায় আগৈলঝাড়ার আসাদুলকে অপহরন, ৩০ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবী

এফএনএস (এস এম ওমর আলী সানি; আগৈলঝাড়া, বরিশাল) :
| আপডেট: ৯ মে, ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম | প্রকাশ: ৯ মে, ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম
লিবিয়ায় আগৈলঝাড়ার আসাদুলকে অপহরন, ৩০ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবী

দুই মাস ধরে লিবিয়ায় মাফিয়ার নির্যাতনের স্বীকার বাংলাদেশ আগৈলঝাড়ার আসাদুল।  নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে  ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে।  ইতোমধ্যে পরিবার ৪ লাখ টাকা পাঠিয়েছ। বাকি টাকা না দিলে মাফিয়ারা তাকে হত্যার করে লাশ ফেলে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে পরিবারের কাছে।  তার পরিবার তাকে উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে দসবী জানিয়েছেন। আসাদুল বক্তিয়ার  বাংলাদেশর বরিশাল  জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের চাত্রিশিরা গ্রামের মো.আবু বক্তিয়ারের ছেলে।


স্থানীয়  ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আসাদুল বক্তিয়ার সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার জন্য  ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর ভিজিট ভিসায় (পাসপোর্ট নং- অ০৪৮০২৯৯৯) তার আত্মীয় এরফান সরদারের মাধ্যমে লিবিয়ায় যায়, লিবিয়ার আনজারা শহরে টেইলারিং এর কাজ করে প্রতি মাসে বাড়িতে ২৫ হাজার টাকা পাঠাতেন। ভালোই চলছিলো আসাদুলের পরিবার। গত ৯ রমজান সেহরি খাওয়ার পরে ভোর রাতে  লিবিয়ার বাসা থেকে আসাদুলকে ৬ জনের একটি মাফিয়ার দল তুলে নিয়ে যায়।

মাফিয়ারা তাদের আস্তানায় নিয়ে আসাদুলকে হাত-পা বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে উলঙ্গ করে বেদম মারধর করে, এমনকি চাকু দিয়ে পুচিয়ে শরির থেকে রক্ত ঝরিয়ে ও হাত-পায়ের নক উপরে ফেলার হুমকিও দেয়, এ দৃশ্য মোবাইলে আসাদুলের বাড়িতে তার বাবা,মা ও স্ত্রীকে দেখিয়ে ৩০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। আসাদুলের অসহায় দরিদ্র পরিবার  টাকা দিতে না পারায় মাফিয়াদের বন্দিদশায়  আসাদুলের অমানুষিক নির্যাতন চালায়।  লিবিয়ায় থাকা আসাদুলের শ্যালক এরফান সরদার লিবিয়ার স্থানীয় দুইটি থানায় এ ঘটনা জানালে মাফিয়ারা এরফানকে মেরে ফেলার হুমকির দেয়। জীবন বাচাতে এরফান পালিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেন।  বাংলাদেশ এসে গত ৩০ মার্চ বোন নিপা বেগমকে সাথে নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ঘটনার বিবরনসহ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরে আসাদুলের উপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয় নির্যাতনের একাধীক ভিডিও আসাদুলের পরিবারকে দেখায়।  আসাদুলের উপর নির্যাতনের এক ভিডিওতে পরিবারকে  কাছে পাঠানে ওই ভিডিওতে  দেখা গেছে  আসাদুল বলছে, মাফিয়াদের ব্যাংক এ্যাকাউন্টে মুক্তিপনে টাকা পাঠিয়ে তার জিবন বাচানোর আকুতি করেছেন আসাদুল। এরপরে তার পরিবার ৪ লক্ষ সুদে এনে ডাচবাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে ২ লাখ ও ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা দেয় মাফিয়াদের পাঠান।এরপর মাফিয়ারা ওই পরিবারকে ফোনে জানায় বাকী টাকা পরিশোধ না করাহলে আসাদুলকে হত্যাকে টুকরা করে মরুভুমিতে ফেলে দেবে। 

আসাদুলের পিতা আবু বক্তিয়ার জানান, মাফিয়ারা ৩০ লাখ টাকা চায় দুই মাস হয়ে গেছে তাদে দাবিকৃত টাকা দিতে পারিনাই। আমার ছেলেকে ওরা পিটাচ্ছে শরিরে রক্ত ঝরাছে। আমার সম্পত্তি থাকলে বিক্রি করে  টাকা দিতাম। একজন পিতা হয়ে ছেলের এমন করুন পরিনতি দেখে কি ভাবে সহায় করি।  আমার সরকার কাছে দাবী  আমার ছেলেটাকে উদ্ধার করুন।  মা বকুল বেগম বলেন, ওরা টাকার জন্য আমার ছেলেকে ঝুলিয়ে পিটাচ্ছে এবং চাকু দিয়ে শরির থেকে রক্ত ঝড়াচ্ছে।আমিতো একজন মা তা দেখে কি ভাবে সহ্য করব। আমাদের সহায় সম্বল কিছুই নেই, কি ভাবে ছেলেকে ছারিয়ে আনবো।দুই মাসে আমাদের নাওয়া খাওয়া ঘুম নাই।কি ভাবে বেঁচে আছি আল্লহ'ই জানেন।

স্ত্রী নিপা বেগম জানান, সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরানোর আশায় আড়াই বছর আগে লিবিয়া যান। ওখানে গিয়ে টেইলারিং কাজ করতো। গত রোজায় মাফিয়ারা তাকে ধরে নিয়ে  টাকা দাবী করে নির্যাতন চালায়।ওইসব ভিডিও আমাদের দেখায়। ৪ লাখ টাকা দিয়েছি।স্বামী আমাকে বলে বাচাও আমি কি ভাবে তাকে বাচাবো।  আসাদুল বক্তিয়ারের ছেলে ৭ম শ্রেণীর ছাত্র হামিম ও মাদ্রাসার  ছাত্র শামিম  পিতার এ অবস্থার কথা শুনে শুধুই ফেল ফেল করে তাকিয়ে থাকে আর বাবার জন্য কান্নাকাটি করে, বাবা কখন ফিরে আসবে এ আশায় পথ চেয়ে বসে আছে। এব্যাপারে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন লিবিয়ায় এক যুবককে অপহরন করে মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। ওই পরিবার আমার কাছে লিখিত ভাবে জানালে ওই কপি আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পেরনসহ ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দকে অবহিত করব।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে