নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের মধ্যে তিন শিশু রয়েছে। গুরুতর অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার (১০ মে) সকাল পৌনে ৭টার দিকে সদর উপজেলার ভূঁইগড় গিরিধারা এলাকার একটি বহুতল ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দগ্ধরা হলেন মো. কালাম, তার স্ত্রী সালমা এবং তাদের তিন সন্তান মুন্না, মুন্নি ও কথা। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বিস্ফোরণের সময় পরিবারের সবাই ঘরের ভেতরে ছিলেন। বিকট শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
প্রাথমিক তদন্তে ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, রান্নাঘর সংলগ্ন গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বদ্ধ কক্ষে গ্যাস জমে ছিল। পরে সকালে লাইটার জ্বালানোর চেষ্টা করলে বিস্ফোরণ ঘটে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল আরেফীন বলেন, “ফ্ল্যাটের পশ্চিম পাশের কক্ষে গ্যাস জমে ছিল বলে ধারণা করছি। লাইটার জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি গ্যাস লাইটার উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।”
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানিয়েছেন, দগ্ধদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার ভাষ্য, “কালামের শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। এছাড়া তার স্ত্রীর ৬০ শতাংশ, মুন্নার ৩০ শতাংশ, কথার ৫২ শতাংশ এবং মুন্নির ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণের শব্দে পুরো ভবন কেঁপে ওঠে। পরে আগুন ও ধোঁয়া দেখতে পেয়ে তারা এগিয়ে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
ঘটনার পর ভবনের অন্য বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গ্যাস লাইনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এলাকাজুড়ে।