কালাইয়ে কৃষকদের চাষাবাদের উদ্বুদ্ধ করতে পার্টনার কংগ্রেস

এফএনএস (মো: তৌহিদুল ইসলাম তালুকদার; কালাই, জয়পুরহাট) : | প্রকাশ: ১১ মে, ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
কালাইয়ে কৃষকদের চাষাবাদের উদ্বুদ্ধ করতে পার্টনার কংগ্রেস

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন জাতের সম্প্রসারণ, কৃষিপণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জয়পুরহাটের কালাইয়ে কৃষকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে “পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬”। সোমবার দুপুরে কালাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের আয়োজনে “কৃষিই সমৃদ্ধি”প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ।

জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম সাদিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা, বগুড়া অঞ্চলের পার্টনার প্রকল্পের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার মাসুদ আহমেদ, জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মোঃ লুৎফর রহমান, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মোঃ কামরুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মাহবুব, কালাই থানার ওসি রফিকুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হারুনুর রশিদ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবিদ আবদুল্লাহ ও জান্নাতুস সাকিব এবং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম- আহবায়ক রফিকুল ইসলাম । এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত কৃষক-কৃষাণী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও বিজ্ঞানসম্মত করতে হবে। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য অতিরিক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত কৃষি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে তুলতে মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার, সুষম সার প্রয়োগ, সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থা, মাটির উর্বরতা সংরক্ষণ এবং কম খরচে অধিক ফলন নিশ্চিত করার বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজনভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, কৃষকই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সার্বিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কৃষকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে। এতে কৃষকদের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করেন। এর আগে ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অতিথিরা। পরে তারা জিএপি (এঅচ) পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজি ও জৈব বালাইনাশক প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে