দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার হরিপুর বিট অফিসে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত মালী মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং বন বিভাগের জমি ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, মোঃ আমিনুল ইসলাম প্রায় ৩০ বছর ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময়ের মধ্যে বন বিভাগের জমি রক্ষার পরিবর্তে কিছু দখলদারকে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে। এতে বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বন বিভাগের সৃজনকৃত বাগানের উপকারভোগী তালিকা তৈরির সময় প্রকৃত উপকারভোগীদের বাদ দিয়ে তার আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হয়েছেন। এছাড়া উপকারভোগী করে দেওয়ার কথা বলে কয়েকজনের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পরে তারা জানতে পারেন, তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ভুক্তভোগী আব্দুল কাদের বলেন, উপকারভোগী করার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে দেখি তালিকায় নাম নেই। আমরা এর সঠিক তদন্ত চাই। আরেক ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম বলেন, বন বিভাগের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চলছে। কেউ কথা বললে তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, জাহানপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় মালী মোঃ আমিনুল ইসলাম প্রায় এক কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তবে তার আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোঃ আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। একটি পক্ষ আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে। হরিপুর বিট কর্মকর্তা সামছুল হক বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিরামপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বন বিভাগকে জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।