সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর আদালতের ভেতরেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। ঢাকার আদালতে শুনানির সময় তিনি বিচারকের উদ্দেশে বলেন, আদালতে আসতে তাঁর ভালো লাগে এবং এতদিন ধরে নিয়মিত হাজিরা দিতে দিতে এটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে এ ঘটনা ঘটে। একই দিনে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা তা দাখিল করতে পারেননি। পরে আদালত আগামী ২৪ জুন প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
মামলার শুনানিতে লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষ থেকে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তার ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ করে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরার অনুমতি দেন। এ সিদ্ধান্তের পরপরই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলায় আগে থেকেই আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার আবেদন করা হলেও সেটি নিষ্পত্তি হতে সময় লাগে। এ নিয়েই আদালতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন সাবেক এই মন্ত্রী।
আবেদন মঞ্জুরের পর তিনি বিচারকের উদ্দেশে বলেন, “এভাবে বিচার ব্যবস্থা চলতে পারে না। ছয় মাস আগে এই আবেদন করেছিলাম। আজ সিদ্ধান্ত দিলেন। আমি আদালতে আসব, আমার আসতে ভালো লাগে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার আদালতে আসা অভ্যাস হয়ে গেছে।” তার বক্তব্যের জবাবে বিচারক জানান, এটি তার ব্যক্তিগত বিষয় এবং আদালত আবেদন মঞ্জুর করেছে।
পরে শুনানি শেষে তিনি হাসিমুখে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। আইনজীবীরা জানান, এখন থেকে তিনি এই মামলায় নিয়মিত সশরীরে হাজির না হয়েও আইনজীবীর মাধ্যমে অংশ নিতে পারবেন।
আইনজীবী গোলাম রাব্বানী বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৫ ধারায় এই আবেদন করা হয়েছিল এবং আদালত তা মঞ্জুর করেছেন। তবে তিনি নিজে আদালতে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এই মামলার পটভূমি অনুযায়ী, গত বছরের ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। অভিযোগে বলা হয়, সেখানে একটি গোলটেবিল বৈঠক চলাকালে একদল ব্যক্তি ঢুকে পড়ে হট্টগোল সৃষ্টি করে এবং অংশগ্রহণকারীদের অবরুদ্ধ করে রাখে।
ওই ঘটনায় লতিফ সিদ্দিকীসহ মোট ১৬ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। পরবর্তীতে কয়েক দফা গ্রেপ্তার, জামিন ও আপিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
শুনানিতে অংশ নেওয়ার সময় আদালতে উপস্থিত থাকা লতিফ সিদ্দিকীর আচরণও আলোচনায় আসে। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তিনি দুই আসামিকে চকলেট দেন এবং শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত শিশু ও ভিক্ষুকদের মাঝেও তা বিতরণ করেন বলে জানা যায়।
অন্যদিকে মামলার তদন্ত এখনো শেষ না হওয়ায় বিচারিক কার্যক্রমে অগ্রগতি থমকে আছে। আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদনই পরবর্তী বিচারিক ধাপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
লতিফ সিদ্দিকী এর আগে একাধিকবার জামিন, গ্রেপ্তার ও আপিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির হয়েছেন এবং মামলাটি এখনো বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।