মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মাঝেই ভারত সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশ: ১৪ মে, ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মাঝেই ভারত সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে টানা দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই তিন দিনের সরকারি সফরে ভারতের নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তেহরানের পক্ষ থেকে চলমান সংকট শুরুর পর এটিই প্রথম উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সফর। এনডিটিভি জানিয়েছে, ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিতেই তার এই সফর।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শুরু হওয়া সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন আরাগচি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি এবং যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে তৈরি হওয়া চাপ।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে লেখেন, “ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছানো ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচিকে আন্তরিক স্বাগতম।”

এই সফর ঘিরে আরেকটি বিষয়ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে। আরাগচি যে বিমানে করে দিল্লিতে পৌঁছেছেন, সেটির নাম ছিল ‘মিনাব ১৬৮’। ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৬৮ শিক্ষার্থীর স্মরণে বিমানের এই নামকরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি চলমান যুদ্ধের মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীকী বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

দুই দেশের বৈঠকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্বের প্রায় এক পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারত, যেটি জ্বালানি আমদানির বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল, নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে ইরানের সহযোগিতা চাইতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকেরও কথা রয়েছে। সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবিয়াবাদি বলেছেন, ব্রিকসের মতো জোটে সক্রিয় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের একক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় ইরানের কৌশলগত অবস্থানের অংশ। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ নিয়ে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর অবস্থান এখনো পুরোপুরি এক নয়। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের সাম্প্রতিক উত্তেজনা জোটের অভ্যন্তরে ভিন্নমতকে আরও স্পষ্ট করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সেপ্টেম্বরের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই বৈঠক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে। একই সঙ্গে ভারতও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রশ্নে আরও সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।