ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে রেললাইনের পাশে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে মাছের বাজার। যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে স্থানটি। কিন্তু অবৈধ এ মাছের বাজার উচ্ছেদে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই।অবৈধ মাছের বাজারটি এক সময় প্রশাসন ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছিল কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীরা নিজেদের ব্যাক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য পুনরায় বাজারটি বসিয়ে ফায়দা লুটে নিচ্ছে।২০০৭ সালে অবৈধ মাছ বাজার ভেঙে দেয়া হয়। তারপর ২০০৯ সালে আবার মাছের আড়ত ও মাছ বাজার গড়ে উঠেছে। ঝুঁকিপূর্ণ হলেও আইন কানুনের কোনো তোয়াক্কা করছেন না ব্যবসায়ীরা।
১৮৬১ সালের রেল আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী রেল লাইনের দুই পাশের ২০ ফুটের মধ্যে রেল সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া বাইরের কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। এমনি গরু ছাগলের প্রবেশ ও নিষেধ। গর, ছাগল রেললাইনে ঢুকে পড়লে তা নিলামে বিক্রয় করার বিধানও আছে।একই ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে, রেললাইনের ২০ ফুটের ভিতর ২৪ ঘন্টা ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। একইভাবে রেল দূর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির বিরুদ্ধে রেল কতৃপক্ষ মামলা করতে পারেন। আবার ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনে রেল চলাচলের দিকনির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এমনকি রেলওয়ে অধ্যাদেশ (অবৈধ দখলমুক্ত) ১৯৭৯ সালে অনুসারে রেলের জমি সঠিক ভাবে উদ্ধার করা হচ্ছে না।উপরের আইনের মত কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজার রেললাইনের ইতিহাস এত দীর্ঘ না হলেও এ রেল লাইনে ট্রেন আসা যাওয়া করছে প্রায় ৯০ বছর। ১৯৩৬ সাল থেকে শুরু হওয়া মাছ বাজারের উপর দিয়ে শত শত বার ট্রেন আসা যাওয়া করলেও রেলের কোন আইন এ বাজারে আসেনি।১৯৮০ সালের দিকে রেলস্টেশনে পাশে এ মাছের বাজার গড়ে উঠে। প্রথমে হাতে গোনা কয়েকটি মাছের আড়ত থাকলেও পরবর্তীতে রেললাইনের পাশ ঘেঁষে আড়ত ও মাছের বাজার গড়ে উঠে। বর্তমানে রেললাইনের দু,পাশেই মাছের জমজমাট বাজার। মাঝখান দিয়ে শুধু লাইন চলে গেছে। আর ট্রেন চলাচলের জন্য লাইনটিও যেন ফাঁকা থাকছে না।
২০২৩ সালের ৫ জুলাই আব্দুল খালেক (৯০), ২০২৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি চিলহাটি ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হয় ৫০ বছরের এক অঞ্জাত ব্যাক্তি,চলতি বছর ২৬ মার্চ রেলষ্ট্রেশনের কাছে অঙ্গাত (৩০)এক নারী ট্রেনে কেটে নিহত হয়,২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর সুন্দরবল এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে জাহিদা বেগম (৪৫) নামে নারী নিহত হয়,২০২৫ সালের ৮ আগষ্ট মহাসিন আলী ট্রেনে কেটে নিহত প্রমুখ। এদিকে শুদু বারবাজার রেলস্টেশন নয় রয়েছে মোবারকগঞ্জ রেলষ্টেশনের পাশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রেলগেট নামক স্থানে বিভিন্ন মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করছে,সুন্দরপুর রেলষ্টেশনের পাশে কৃষকরা দখল করে আবাদ করছে। রগুনাথপুর রেলক্রসিং নামক স্থানে দুই পাশ দখল করে বিভিন্ন ব্যবসা ও বসবাস করছে।
বিশেষ করে বারবাজার রেললাইনের পাশ ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে মাছের আড়ত। এ কারণে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটলেও থেমে নেই বাজারের কার্যক্রম।ট্রেন আসার সময় দোকানদাররা হাঁকডাক দিয়েক্রেতাদের রেললাইন থেকে সরিয়ে দিয়ে থাকে।এভাবেই বহু বছর ধরে চলে আসছে বাজারটি।বিভিন্ন সময় মানুষ ট্রেনের নিচে কাটা পড়ায় পরও সরানো হয়নি বাজারটি।প্রতিদিন ভোরের সূর্য উঠার সাথে সাথে বিভিন্ন এলাকার মাছ নিয়ে আসেন এ আড়ৎে। এখানকার মাছের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে সারা বাংলাদেশে। বিভিন্ন স্থান থেকে যেমন মাছ ব্যবসায়ীরা তাদের মাছ বিক্রির জন্য আসে,তেমনি,সিলেট,বগুড়া, ঢাকাসহ দূর দূরান্তের পাইকারা এখানে আসে তাজা মাছ কিনতে। তবে দাম একটু চওড়া হলেও তাজা মাছের কোন প্রকার জুড়ি নেই। এখানে সন্ধ্যা রাত্রের আসা কিছু কিছু মাছ বরফ দেয়া থাকলেও ফরমালিন মুক্ত মাছ পাওয়া যায়।দিন রাত সর্বসময় মাছের ট্রাক সাজানো হয়, এসক মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে মোবারকগঞ্জ রেলষ্টেশন মাষ্টার শাহাজান আলী বলেন, ষ্টেশনের পাশে বাজার বসানো ও বিভিন্ন স্থান দখলের বিষয়ে একাধিকবার নোটিশ পেয়েছে। রেলবিভাগের উপরি মহল অবৈধ দখল দারদের উচ্ছেদ করনের চিন্তা করছে।