কালবৈশাখি ঝড়ে বরিশালের দ্বীপ উপজেলা মেহেন্দীগঞ্জে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ঝড়ে অন্তত ১০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পরেছে। এতে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চরম দুর্ভোগ ও শঙ্কায় পড়েছেন মেঘনাপাড়ের এই দ্বীপ উপজেলার বাসিন্দারা। অপরদিকে বরিশালের অধিকাংশ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল বিদ্যুতহীন অবস্থায় রয়েছে। বুধবার (২৭ মে) সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ আঘাত হানা ঝড়ের তীব্রতায় বরিশালের অধিকাংশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি, গাছপালা ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর পরে থাকা গাছ অপসারণে সকাল থেকে কাজ করছে মেহেন্দীগঞ্জ এলিট ফুটবল একাডেমির সদস্যরা।
জানা গেছে, উপজেলার পৌরসভার চুনার গ্রামে হানিফ পোদ্দারের বাড়ির ওপর একটি বিশাল চাম্বল গাছ উপড়ে পড়ে। এতে ঘরের বারান্দাসহ বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান ঘরে থাকা তিন সদস্য।
হানিফ পোদ্দারের স্ত্রী জানান, তীব্র বাতাসের মধ্যে হঠাৎ ভাঙচুরের শব্দ পাই। আমরা দ্রুত ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে যাই। পরে দেখি, বাড়ির পেছনে থাকা বিশাল চাম্বল গাছটি ঘরের ওপর উপড়ে পরেছে। অপরদিকে পৌরসভার কালিকাপুর গ্রামের আদর্শ গ্রাম স্কুলসংলগ্ন এলাকায় শান্ত রাড়ির বসতঘরের ওপর একটি বড় নারিকেল গাছ ভেঙে পড়ে। এতে পুরো ঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পিতা-মাতা হারানো শান্ত ও তার বোন দাদীর সঙ্গে ওই ঘরেই বসবাস করতেন। মানুষের সহযোগিতায় চলা তাদের সংসারের একমাত্র আশ্রয়স্থল ছিল এই ঘরটি। কিন্তু সকালের ঝড়ে সেই শেষ সম্বলও হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে থাকার শঙ্কায় রয়েছেন তারা। বিকল্প কোনো আশ্রয়ও নেই তাদের। অন্যদিকে পৌরসভার বদরপুর গ্রামে নাদের আলী বেপারীর বাড়িতে শাকিলের একটি মুরগির খামার ঝড়ে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। এতে খামারটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ঝড়ের পর পুরো বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উপজেলা জুড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সামনে ঈদুল আজহা থাকায় বিদ্যুৎ ও বসতঘরের সংকট নিয়ে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সাংবাদিক আসাদুল ইসলাম বলেন, মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চারদিকে নদী। কোরবানির ঈদের আগেরদিন এই দ্বীপ উপজেলাটি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় মানুষ কষ্টে দিনযাপন করছে। চর অঞ্চলের মানুষগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ঝড়ে অসহায় পরিবারগুলোর পাশে প্রশাসন ও বিত্তবানদের দাঁড়ানোর আহবান করছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দ্রুত প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মেহেন্দীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের ডিউটি ম্যান ফায়ার ফাইটার মো. মামুন বলেন, মেহেন্দীগঞ্জে ব্যাপক ঝড় হয়েছে। ঝড়ে আমাদের ফায়ার স্টেশনের একটি আমগাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে। তবে উপজেলার কোথাও রাস্তাঘাট বন্ধ হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে আমাদের কেউ অবহিত করেনি। বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএ) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঝড়ে আমাদের অন্তত ১০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে। এছাড়াও গাছ পড়ে তার ও খুঁটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা সকাল থেকেই কাজ করছি। আজ মেইন লাইন ঠিক করতে পারলে হয়তো আগামীকাল কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা যাবে।
তিনি আরও বলেন, ভেঙে পড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণে সময় বেশি লাগছে। তাই বিদ্যুৎ পেতে গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার আহবান জানাচ্ছি। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজুর রহমান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। এদিকে ঝড়ের তীব্রতায় গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, হিজলা, মুলাদী, বানারীপাড়া, উজিরপুর, বাকেরগঞ্জ ও বাবুগঞ্জ উপজেলাতেও বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এসব উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল বিদ্যুতহীন রয়েছে।