সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মিষ্টির বাজারগুলোতে সাধারণ ক্রেতাদের পকেট কাটার মহোৎসব চলছে। একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিতিশীলতার অজুহাতে দফায় দফায় মিষ্টির দাম বাড়ানো হচ্ছে, অন্যদিকে একবার দাম বাড়লে তা আর কমার কোনো লক্ষণ নেই। এর ওপর যোগ হয়েছে মারাত্মক ভেজাল ও ওজনে কারচুপির অভিনব সব কৌশল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমানে কলারোয়ার বাজারে খাঁটি গরুর দুধ ছাড়াই তৈরি হচ্ছে সিংহভাগ মিষ্টি। রসগোল্লা, দানাদার, চমচম, কালোজাম, সাদা মিষ্টি কিংবা ছানার জিলাপি-সবকিছুতেই ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ভারতীয় গুঁড়ো দুধ। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী মাত্র ১ কেজি গুঁড়ো দুধের সাথে চিনি ও অন্যান্য উপাদান মিশিয়ে তৈরি করছে প্রায় ৭ কেজি মিষ্টি! বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গুঁড়ো দুধের দাম প্রায় ৫৫০ টাকা এবং চিনির কেজি ৯৮ টাকা। এই স্বল্প খরচের উপাদান দিয়ে তৈরি মিষ্টি চড়া দামে বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল অংকের মুনাফা।
মিষ্টির পাশাপাশি বাজারে মিলছে 'দুধ ছাড়া দই'। গুঁড়ো দুধ দিয়ে তৈরি এসব দইয়ের প্রতি পিস ‘মালসা’ বা ‘খোপ’ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা দরে। সচেতন ক্রেতাদের অভিযোগ, এই দইয়ের ওজনে রয়েছে বড় ধরনের কারচুপি। ১ কেজি ওজনের কথা বলে বিক্রি করা প্রতিটি খোপে প্রকৃতপক্ষে দই থাকে মাত্র ৭০০ গ্রাম। অথচ ক্রেতাদের কাছ থেকে ১ কেজির দামই রাখা হচ্ছে।
খাঁটি দইয়ের চেনার উপায় সম্পর্কে স্থানীয় এক অভিজ্ঞ মিষ্টি দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, "অরিজিনাল গরুর দুধের দই সাধারণত বেশ নরম হয় এবং এতে সর কম পড়ে। বাজার থেকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পথেই তা কিছুটা গলে যাওয়ার মতো নরম হয়ে যায়। কিন্তু সাধারণ ক্রেতারা এখন চকচকে ও শক্ত সরওয়ালা দই পছন্দ করেন। তাই বেশি চাহিদার কারণে এবং অধিক লাভের আশায় ব্যবসায়ীরা গুঁড়ো দুধ দিয়ে কৃত্রিম উপায়ে শক্ত সর তৈরি করে দই বিক্রি করছেন।"
ওজনে ঠকানোর এখানেই শেষ নয়; মিষ্টি বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে ভারী কাগজের ঠোঙ্গা (প্যাকেট), যার একেকটির ওজন ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম পর্যন্ত। অর্থাৎ, ১ কেজি মিষ্টি কিনলে ক্রেতা মূলত ৮৫০ গ্রাম মিষ্টি পাচ্ছেন, বাকিটা ঠোঙ্গার ওজন। একইভাবে ৭০০ গ্রামের দইয়ের মালসা ফ্রিজে রেখে বরফ জমিয়ে সেটির ওজন সাড়ে ৮০০ গ্রাম পর্যন্ত বানিয়ে ক্রেতাদের গছিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বাজারের এমন নৈরাজ্য ও প্রতারণায় ক্ষুব্ধ কলারোয়ার সাধারণ ক্রেতা ও এলাকাবাসী। মিষ্টির নামে এই ভেজাল ও ওজনে কারচুপি বন্ধ করতে এবং সিন্ডিকেট ভাঙতে তারা সাতক্ষীরা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরুরি ও সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। একই সাথে জনস্বার্থে উপজেলার প্রতিটি মিষ্টির দোকানে নিয়মিত ও ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।