কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বেড়ে যাওয়া চুরি ঘটনায় এবার যোগ হলো উম্মূক্ত সরকারি কবরস্থান থেকে মৃতব্যক্তির কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরির ঘটনা। কঙ্কাল চুরির চাঞ্চল্য ঘটনাটি ঘটেছে ফুলবাড়ী উপজেলার একমাত্র বধ্যভূমি বীর মুক্তিযোদ্ধা মজর উদ্দিন বধ্যভূমি সংলগ্ন উম্মূক্ত সরকারি কবরস্থানে। এই কবরস্থানে গত বছরের রমজান মাসে মারা যাওয়া ফুলবাড়ী সদরের চন্দ্রখানা গ্রামের বৃদ্ধ কাচুয়া মামুদকে দাফন করা হয়। শনিবার (৩০ মে) স্থানীয় কবরের পাশের খোলা মাঠে ধানের খড় শুকাতে এস দেখেন মৃত কাচুয়া মামুদের কবরটির মাটি সরানো ও কবরটির উম্মূক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় শোরগোল শুরু হলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমায়।
সবাই কবরে নজর দিয়ে দেখেন কবরে দাফনকৃত ব্যক্তির লাশ বা কঙ্কাল নেই। পরবর্তীতে মৃত ব্যক্তির পরিবারের লোজন এসে কবরটি মাটি সরানো উম্মূক্ত দেখতে পান। পরবর্তীতে তারা মাটি সরানো কবরটি মাটি ভরাট করে দেন। সরকারি এই কবরস্থানটি হলেও এই কবরস্থানে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নেই। কবরস্থানটির নেই বাউন্ডারি ওয়াল। নেই লাইটিং ব্যবস্থা। কোনো প্রহরীও নেই। ফলে উম্মূক্ত এই কবরস্থানটি ও একমাত্র বধ্যভূমি বীর মুক্তিযোদ্ধা মজর উদ্দিন বধ্যভূমিটি অপরাধি ও মাদক সেবনকারীদের অভয়াশ্রমে পরিনত হয়েছে। চুরি হতে শুরু হয়েছে মৃতব্যক্তির লাশ বা কঙ্কাল।
স্থানীয় জমসেদ আলী জানান, আমরা কবরস্থানের ফাঁকা জায়গায় ধানের খড় শুকাতে এসে কাচুয়া মামুদের কবরটির মাটি সরানো দেখতে পাই। কবরটিতে দাফনকৃত মৃতব্যক্তির লাশ বা কঙ্কাল কোনো কিছুই কবরে ছিলনা। সংঘবদ্ধ চোরেরা মাস্ক পড়ে মৃতব্যক্তির কঙ্কাল বা লাশটি চুরি করে নিয়ে যেতে পারে। কারন কবরের পাশে কয়েকটি মাস্ক পড়ে থাকতে দেখেছেন বলে জানান খড় শুকাতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা জমসেদ আলী।
এ প্রসঙ্গে মৃত কাচুয়া মামুদের ছেলে মোজাফ্ফর হোসেন তার পিতার কবরে চোরের থাবা দেয়ার স্বীকার করে জানান, আমি কবরে নেমে দেখিছি চোরেরা যতটুকু কবরের মাটি খঁড়েছে ততটুকুতে বাবার লাশটি নেই। তবে তার ধারনা, চোরেরা চুরি করতে আসলেও তার বাবার লাশ বা কঙ্কালটি চুরি করতে পারেনি। কারন তার বাবার লাশটি মাটিতে দেবে যেতে পারে।