মণিরামপুরে জমিজমা বিরোধে বড় ভাইকে পেটালো ছোট, বৃদ্ধ আহত

এফএনএস (জি. এম ফারুক আলম; মণিরামপুর, যশোর) : | প্রকাশ: ৩১ মে, ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
মণিরামপুরে জমিজমা বিরোধে বড় ভাইকে পেটালো ছোট, বৃদ্ধ আহত

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কাশিপুর গ্রামে জমিজমা ও বাড়িতে প্রবেশের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে বড় ভাইকে লাঠিসোটা দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ঈদের পরদিন শুক্রবার সকালে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় আহত সায়েদ আলী (৬৫) বর্তমানে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাশিপুর গ্রামের মৃত. হাতেম আলীর ছেলে সায়েদ আলী ও তার ছোট ভাই আব্দুল্লাহ ওরফে ফড়িং (৪৮)-এর মধ্যে বাড়িতে প্রবেশের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে ঈদের আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার বৈঠক করে বিরোধ মিমাংসার উদ্যোগ নেয়। খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য খলিলুর রহমান, সমাজসেবক শওকত আলী, খুঁজিবার রহমান, আনিসুর রহমানসহ এলাকার বিশিষ্টজনেরা উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষই শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। কিন্তু ঈদের আনন্দের আবহ শেষ না হতেই সেই বিরোধ ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।

আহতের ছেলে আব্দুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, “ঈদের পরদিন সকালে আমার চাচা আব্দুল্লাহ ওরফে ফড়িং, গোলাম রসুল ও চাচাতো ভাই শাওন হোসেন আমাদের বাড়িতে এসে আব্বার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তারা উত্তেজিত হয়ে আব্বার ওপর হামলা চালায়।  চাচা আব্দুল্লাহ ফড়িং লাঠি দিয়ে আব্বার মাথায় সজোরে আঘাত করেন। সঙ্গে সঙ্গেই আব্বা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার মাথা ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে। আমরা পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমার মনে হয়েছে, তারা পরিকল্পিতভাবেই আমাদের পরিবারের ক্ষতি করতে এসেছিল। মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ অনুপ কুমার বসু বলেন, রোগী সায়েদ আলীর মাথায় আঘাতে  জখম হয়েছে। তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।  স্থানীয়রা বলছেন দীর্ঘদিনের জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ ওরফে ফড়িং বা তার পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। মণিরামপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, ঘটনাটি মৌখিকভাবে শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে