দেশে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা ও বরিশালে এই দুই শিশুর মৃত্যু হয়। এ সময় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭৭ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়েছে ৫৩ জন শিশু, আর হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ৩২৪ জনের শরীরে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৮১ জন শিশু এবং চিকিৎসা শেষে ছাড়া পেয়েছে ৭৯১ জন।
গত কয়েক মাস ধরে দেশে হামের পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়াই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ৯৩৬ জনে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৬ হাজার ৮৮৬ জন শিশু। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫২ হাজার ৮৪১ জন।
এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৪৯ জন। আর হামে আক্রান্ত হওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে ৯০ শিশুর। অন্যদিকে হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ৪৯৫ শিশুর, যা মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৫ জনে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। তাদের মতে, গ্রামীণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি আরও বাড়াতে হবে, না হলে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ আরও বাড়ানোর দাবি উঠছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে।