রিয়াল মাদ্রিদে আসার পর থেকেই জুড বেলিংহামের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ বারবার উঠে আসছে, অহংকারী মনোভাবের। কিন্তু যিনি কাছ থেকে তার উত্থান দেখেছেন, সেই সাবেক সতীর্থ ডেভিড ডেভিস এই অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দিয়েছেন। বার্মিংহাম সিটির ওই মিডফিল্ডার বলছেন, বেলিংহামের মধ্যে যেটাকে অহংকার বলা হচ্ছে, সেটা আসলে শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য দরকারি আত্মবিশ্বাস।
বার্মিংহাম সিটির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডেভিস বলেন, "সে একজন বিনয়ী ছেলে ছিল। মানুষ ভাবে সে অহংকারী, কিন্তু এই পর্যায়ে পৌঁছাতে হলে আত্মবিশ্বাস থাকতেই হবে। ইংল্যান্ডের গণমাধ্যম এটাকে অহংকার মনে করে। কিন্তু এতটা ভালো হলে মাথার ভেতরে একটা কণ্ঠ দরকার, যেটা বারবার বলে, তুমি যথেষ্ট ভালো।"
বার্মিংহামের ওয়াস্ট হিলস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে কিশোর বেলিংহামকে চোখের সামনে বেড়ে উঠতে দেখেছেন ডেভিস। ক্লাবের হয়ে ১৮২টি ম্যাচ খেলা এই খেলোয়াড় বলছেন, ১৬ বছর বয়সেই ট্রেনিং সেশনে সিনিয়র খেলোয়াড়দের সাদামাটা দেখাচ্ছিল বেলিংহাম। তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, এই ছেলে কোথায় যাবে।
ডেভিস স্মৃতি হাতড়ে বলেন, "আমি কি অবাক হয়েছি সে এত দ্রুত উঠে গেল? না। সে যা যা করছিল, সেগুলো দেখলেই বোঝা যেত। ফাইভ-এ-সাইডে সবাই তার দলে থাকতে চাইত! শারীরিক শক্তির ঘাটতি ছিল, কিন্তু কোন ডুয়েলে যাওয়া ঠিক হবে না সেটা সে বুঝত। এত অল্প বয়সে এই ফুটবল-বুদ্ধিমত্তা অসাধারণ।"
বার্মিংহামে একটা পরিবর্তনের সময়ে তরুণ খেলোয়াড়দের সহজে মিশিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব অনুভব করতেন ডেভিস। বেলিংহামের মধ্যে তিনি এমন একটা পরিপক্বতা দেখেছিলেন, যা চ্যাম্পিয়নশিপের চাপেও তাকে শান্ত রেখেছিল। ডেভিস বলেন, "আমি চাইতাম তরুণরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করুক। আমি নিজে যখন উঠে আসছিলাম, সিনিয়ররা আমাকে কষ্ট দিয়েছিল। সেই অনুভূতি ভীষণ খারাপ ছিল।"
বার্নিংহামের সেন্ট অ্যান্ড্রুজ থেকে মাদ্রিদের বার্নাব্যু, ২২ বছর বয়সী বেলিংহামের এই পথচলা তার আত্মবিশ্বাসেরই প্রমাণ। রিয়াল মাদ্রিদে নতুন কোচ হিসেবে জোসে মরিনহোর আসার কথা রয়েছে, দলে রদবদলও হতে পারে। কিন্তু যারা বেলিংহামকে সবচেয়ে কাছ থেকে চেনেন, তাদের মতে তার চরিত্র সম্পদ, দায় নয়। মাঠে পারফরম্যান্স দিয়েই সমালোচকদের জবাব দিতে পছন্দ করেন ইংলিশ এই মিডফিল্ডার।
সূত্র: গোল ডট কম