বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে দুর্দান্ত এক বার্তা দিল ব্রাজিল। মারাকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি ম্যাচে পানামাকে ৬-২ গোলে হারিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের অনবদ্য পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দ্বিতীয়ার্ধে একসঙ্গে ১০ খেলোয়াড় পরিবর্তনের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে সেলেসাওরা। ছয়টি গোল এসেছে ছয়জন ভিন্ন খেলোয়াড়ের পা থেকে, যা দলটির আক্রমণভাগের গভীরতাও স্পষ্ট করেছে।
বিশ্বকাপ শুরুর দুই সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকতে দল পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ কাজে লাগান ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। প্রথম ও দ্বিতীয়ার্ধে প্রায় দুটি ভিন্ন একাদশ মাঠে নামিয়ে খেলোয়াড়দের পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। ইনজুরির কারণে নেইমার খেলতে না পারলেও মারাকানায় উপস্থিত থেকে দলের খেলা দেখেছেন। ম্যাচের আগে ও পরে তাকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান সমর্থকেরা।
ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার শট জড়িয়ে যায় জালে। তবে ১৪তম মিনিটে সমতায় ফেরে পানামা। আমির মুরিলোর ফ্রি কিক ম্যাথিউস কুনহার গায়ে লেগে দিক বদলে জালে ঢুকে যায়। এরপর প্রথমার্ধের শেষ দিকে ভিনিসিয়ুসের দারুণ ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্রাজিলকে আবারও এগিয়ে দেন কাসেমিরো।
প্রথমার্ধে ৪-২-৪ ফরমেশনে খেললেও কাঙ্ক্ষিত ছন্দ খুঁজে পায়নি ব্রাজিল। মাঝমাঠে কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেসকে বেশ চাপে থাকতে হয়। তবে বিরতির পর চিত্র পুরো বদলে যায়। একসঙ্গে ১০ খেলোয়াড় পরিবর্তন করে ৪-৩-৩ ফরমেশনে ফেরান আনচেলত্তি। এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের উৎসব শুরু করেন বোর্নমাউথের তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান। এরপর লুকাস পাকেতা, ব্রেন্টফোর্ডের ইগর থিয়াগো এবং দানিলো সান্তোস গোল করে ব্যবধান বাড়ান। পানামার হয়ে কার্লোস হার্ভি একটি গোল শোধ করলেও তা কেবল ব্যবধান কমানোর কাজই করেছে। শেষ পর্যন্ত ৬-২ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।
ম্যাচ শেষে নিজের মূল্যায়নে আনচেলত্তি বলেন, “দ্বিতীয়ার্ধ আমার মাথায় আরও বেশি সংশয় তৈরি করেছে। তবে এটি দলের জন্য ভালো। কারণ সুস্থ প্রতিযোগিতা এবং ইতিবাচক সংশয় থাকাটা জরুরি।”
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মূল কৌশলে ৪-৩-৩ ফরমেশন প্রভাব ফেলবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রসিকতা করে ইতালিয়ান এই কোচ বলেন, “বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত আমি কিছুটা রহস্য বজায় রাখতে চাই। তা না হলে আমাদের কথা বলার মতো কিছু থাকবে না।”
ম্যাচে ভিনিসিয়ুস ছিলেন সবচেয়ে উজ্জ্বল। একটি গোল করার পাশাপাশি কাসেমিরোর গোলেও সহায়তা করেন তিনি। আক্রমণে তার গতি, সৃজনশীলতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা ব্রাজিল সমর্থকদের নতুন করে আশাবাদী করেছে।
এই জয়ের পর দলকে স্বল্প সময়ের ছুটি দেওয়া হয়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দেবে ব্রাজিল। সেখানে ৬ জুন ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে মিশরের বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১৩ জুন মরক্কোর মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে সেলেসাওদের।