ওরা আনন্দিত, ওরা উদ্বেলিত, ওরা খুশিতে আত্মহারা। জীবনের নানা বঞ্চনা, অভাব আর সীমাবদ্ধতার মাঝেও একদিনের নির্মল আনন্দ যেন রঙ ছড়িয়ে দিল তাদের ছোট্ট পৃথিবীতে। যে শিশুরা প্রতিদিন সংগ্রামের বাস্তবতায় বড় হচ্ছে, তাদের মুখে একটুখানি হাসি ফোটাতে এগিয়ে এলো প্রাকীর্তি ফাউন্ডেশনের সহযোগী সংগঠন আলোর দরজা বিদ্যানিকেতন। শিক্ষার পাশাপাশি আনন্দ-বিনোদন, মানসিক বিকাশ ও সামাজিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দিতে সোমবার (১ জুন) নাটোরের লালপুর উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে আয়োজন করা হয় দিনব্যাপী শিক্ষা-ভ্রমণ ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের। লালপুরে মনোরম পরিবেশে অবস্থিত গ্রিনভ্যালি পার্কে অনুষ্ঠিত এ ব্যতিক্রমী আয়োজনে অংশ নেয় আলোর দরজা বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার্থীরা। আয়োজকদের উদ্যোগ এবং পার্ক কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতায় শিশুদের জন্য বিনামূল্যে বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়। পার্কের নানা রাইড, খেলাধুলা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে তারা। অনেকের কাছেই এটি ছিল জীবনের প্রথম শিক্ষা-ভ্রমণ। তাই প্রতিটি মুহূর্তকে তারা উপভোগ করেছে অফুরন্ত আনন্দে। কখনো দোলনায়, কখনো ট্রেন, কখনো রাইডে, আবার কখনো বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আড্ডায় মেতে ওঠা শিশুদের মুখের উজ্জ্বল হাসি যেন জানিয়ে দিচ্ছিল- ছোট্ট একটু ভালোবাসা আর সুযোগ পেলেই শৈশব কতটা সুন্দর হয়ে উঠতে পারে।
শিশুদের আনন্দঘন মুহূর্তে পাশে থেকে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিতে উপস্থিত ছিলেন প্রাকীর্তি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নুরিয়া পারভীন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (অর্থ) আমিনুল হক টমি, পরিচালক ও আলোর দরজা বিদ্যানিকেতন পরিচালনা কমিটির সভাপতি আরিফুল ইসলাম, আদম আলী শিক্ষা বৃত্তি কমিটির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, এ.বি.আর. বিক্সসের স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম ময়েন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন। প্রাকীর্তি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নুরিয়া পারভীন বলেন, “সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাদের মানসিক বিকাশ গঠনে এবং সৃজনশীলতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্নভাবে বিনোদনের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। এমন আয়োজন শিশুদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করবে এবং নিয়মানুবর্তিতার শিক্ষা দেবে যা তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরো জানান, সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশুদের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। ভ্রমণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারেরও ব্যবস্থা করা হয়। দিন শেষে ক্লান্ত শরীর হলেও শিশুদের মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। আনন্দঘন এই দিনের স্মৃতি বুকে নিয়ে তারা ফিরে যায় আপন ঠিকানায়। আর তাদের সেই নির্মল হাসি ও উচ্ছ্বাস ছুঁয়ে যায় উপস্থিত সবার হৃদয়।