রাজশাহীর বাগমারায় সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান এবং জনসেবার মানোন্নয়নে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত গণশুনানি কার্যক্রম ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। প্রতি বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ গণশুনানিতে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে নিজেদের নানা সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরছেন। এতে অনেক জটিল সমস্যার দ্রুত সমাধান হচ্ছে এবং জনগণের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা বাড়ছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাগমারায় চলমান গণশুনানি কার্যক্রমের মাধ্যমে পারিবারিক বিরোধ, জমিজমা সংক্রান্ত জটিলতা, সামাজিক দ্বন্দ্ব, স্থানীয় বিরোধ ও বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে সাধারণ মানুষ সরাসরি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ উপস্থাপনের সুযোগ পাচ্ছেন। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শুনে তাৎক্ষণিক সমাধান কিংবা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, গণশুনানিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষ নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরছেন। ইউএনও সেলিম আহমেদ ধৈর্য সহকারে সবার বক্তব্য শুনে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান কিংবা প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। এতে উপস্থিত সেবা প্রত্যাশীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
গণশুনানিতে অংশ নেওয়া কয়েকজন জানান, ছোটখাটো বিরোধ বা সমস্যার সমাধানে আগে থানা কিংবা আদালতের দ্বারস্থ হতে হতো। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি হয়রানিরও শিকার হতে হতো। এখন উপজেলা প্রশাসনের এ ব্যবস্থায় দ্রুত সমাধান মিলছে, ফলে ভোগান্তিও কমেছে।
জানা গেছে, প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ইউএনও কার্যালয়ে এসে নিজেদের সমস্যা নিয়ে অভিযোগ দাখিল করছেন। এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে প্রতি বুধবার অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা ও নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জনগণের দোরগোড়ায় প্রশাসনিক সেবা পৌঁছে দিতে এবং বিরোধ নিরসনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত গণশুনানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা মনে করছেন, এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে বাগমারায় সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জনসেবার মান আরও উন্নত হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমেদ বলেন, “অনেক সময় ছোটখাটো বিষয়ও থানা বা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এতে জনগণ সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নানা ধরনের হয়রানির শিকার হন। অনেক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতিও ঘটে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই গণশুনানিকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে মানুষ স্বল্প সময়ে, হয়রানিমুক্তভাবে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান পেতে পারেন। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং একটি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উন্নয়নমুখী বাগমারা গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”