জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল পৌরসভার একমাত্র বড় হাট ইটাখোলা হাট ও বাজারে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করছে চরম অগোছালো পরিবেশ। হাটের জায়গা বেদখল, নির্দিষ্ট জবায়খানা না থাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব এবং ড্রেনেজ সংকটের কারণে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রতিনিয়ত।
জানাগেছে, পৌরসভার ০৮ নং ওয়ার্ডে ক্ষেতলাল মৌজায় ইটাখোলা মহল্লায় ১ একর ৯৫ শতক জায়গা জুড়ে সপ্তাহে দুই দিন (শুক্রবার ও মঙ্গলবার) বসে এই হাটে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। এই হাট থেকে প্রতিবছর ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ টাকায় ইজারা নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। তবে বড় অংকের রাজস্ব আদায় হলেও বাজার ব্যবস্থাপনায় নেই কোনো শৃঙ্খলা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাজারে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী পট্টি বসানোর কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। গাদাগাদি করে মাছের পট্টির পাশেই মিষ্টির দোকান, এতে করে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে । আবার প্রাণীসম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পে পৌর কাঁচাবাজার যাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তারা নিয়ম না মেনে সেখানে বসানো হয়েছে টেইলার্স ও ভ্যারাইটি স্টোর এবং স্টোররুম হিসেবে। এছাড়া, জবায়খানা না থাকায় খোলা জায়গাতেই গরু ও খাসি জবাই করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকা। মাছ পট্টি, কসাইখানা ও গণটয়লেটের বর্জ্য একত্রে পড়ে পরিবেশ হয়ে উঠছে দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর। প্রতিবছর কুরবানির পশুর হাট বসানো হয় রাস্তা দখল করে। স্থানীয় মিষ্টি ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, নিয়মিত টোল দিয়ে ব্যবসা করি। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পণ্য বিক্রি করতে পারি না। মাছের বাজার পাশে হওয়ায় সবসময় ঝুঁকিতে থাকতে হয়। বাজারে আসা ক্রেতা জাইদুল বলেন, হাটের বারোয়ারী ছাড়া অন্য বারোয়ারীগুলো এত নিচু যে অসাবধান হলেই মাথায় আঘাত লাগে। বয়স্ক মানুষদের জন্য গণটয়লেটের রাস্তা দিয়ে চলাচল করাই কষ্টকর। হাটের ইজারাদার বাবলু জানান, ইজারা নেওয়ার পরই বাজারের বেদখল জাগা ও সীমানা নির্ধারণসহ সমস্যাগুলো পৌর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এ বিষয়ে পৌর প্রকৌশলী আফতাব হোসেন বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানে একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে।