গজারিয়ায়

বাড়ছে স্মার্টফোন আসক্তি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ

এফএনএস (মোঃ আমিরুল ইসলাম নয়ন; গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ) : | প্রকাশ: ৪ জুন, ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
বাড়ছে স্মার্টফোন আসক্তি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় শিশু কিশোরদের মধ্যে স্মার্টফোন আসক্তি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাড়ির আঙিনা, দোকানপাট, মাঠ কিংবা রাস্তাঘাট সবখানেই দেখা যায় কিশোররা ব্যস্ত ইন্টারনেটভিত্তিক গেমস, টিকটক ও বিভিন্ন ভিডিও দেখায়। ফলে লেখাপড়া থেকে দূরে সরে গিয়ে অনেকে জড়িয়ে পড়ছে বখাটেপনা ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের অসচেতনতা ও নিয়ন্ত্রণের অভাবেই কিশোরদের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। প্রাথমিকের গণ্ডি পার হতেই অনেক শিশুর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন। এরপর তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনলাইন গেমস, টিকটক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় কাটাচ্ছে। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন নদীর পাড়, মাঠ, বাজার ও রাস্তার মোড়ে দলবেঁধে আড্ডা দিতে দেখা যায় উঠতি বয়সী কিশোরদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, এদের একটি অংশ বড়দের সঙ্গে বেয়াদবি, শিক্ষকদের অবমূল্যায়ন এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধেও জড়িয়ে পড়ছে। পাশাপাশি মাদক গ্রহণ, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে কিছু কিশোর।

উপজেলার নয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা কবির মিয়া বলেন, আমার তিন ছেলে মেয়ে মোবাইল ফোনে এতটাই আসক্ত হয়ে পড়েছে যে লেখাপড়ায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। মোবাইল কিনে দেওয়ার জন্য নানা বাহানা করত। এখন সারাদিন সারারাত মোবাইল নিয়েই ব্যস্ত থাকে। কিছু বললে বলে তুমি কিছু বুঝবা না, এখন মোবাইলেই ক্লাস করি। বালুয়াকান্দি ডা. আব্দুল গাফ্ফার স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক বলেন, মোবাইল গেমসে আসক্তির কারণে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গেমস খেলে এবং নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে না। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান আলী বলেন, অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন প্রয়োজনের বাইরে মোবাইল ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকে পরিবার থেকেই নজরদারি বাড়াতে হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. খন্দকার আরশাদ কবির জানান, অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। মোবাইল স্ক্রিনের রেডিয়েশন শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এছাড়া অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে ঘুম কমে যায়, ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়, রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। সচেতন মহলের ভাষ্য, শিশু-কিশোরদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি মোবাইল ব্যবহারে সময়সীমা নির্ধারণ ও খেলাধুলা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে