কিশোরগঞ্জের

বুরুঙ্গারচরে রাস্তার দুপাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

এফএনএস (আমিনুল হক সাদি; কিশোরগঞ্জ) : | প্রকাশ: ৫ জুন, ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম
বুরুঙ্গারচরে রাস্তার দুপাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

বাংলাদেশ অটোমোবাইল প্রফেশনালস অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে মারিয়া ইউনিয়নের বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে জেলা সদরের মারিয়া ইউনিয়নের বুরুঙ্গারচরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপন কর্মসূচিতে এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সংগঠন নিয়ে বুরুঙ্গারচরে তিন কিলোমিটার রাস্তার দুপাশে বৃক্ষরোপণ করা হয়। এতে প্রায় দুই হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছে। বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ অটোমোবাইল প্রফেশনালস অ্যাসোসিয়েশনের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক বৃক্ষপ্রেমি হোসেন আলমগীর। বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন মারিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ১ আব্দুল্লাহ আল হারুন (মাসুম)। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: শহীদুল্লাহ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট হামিদা বেগম, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জুয়েল, মারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কাসেম, ইউপি সদস্য তানভীর আহমেদ উজ্জল,বাংলাদেশ অটোমোবাইল প্রফেশনালস এসোসিয়েশন (বাপা) ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন প্রিন্স, রাশেদুল হাসান, কিশোরগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন প্রমুখ।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ অটোমোবাইল প্রফেশনালস অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক আয়োজিত আজকের অনুষ্ঠানে যে সকল প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছেন তা হলো বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, শহীদ লেফটেন্যান্ট আশফাকুস সামাদ বীর উত্তম স্মৃতি গ্রন্থাগার, ভোরের আলো সাহিত্য আসর,

জ্ঞানতীর্থ গ্রন্থাগার, প্রস্তাবিত কাতিয়ারচর সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড, ইকরা গণ গ্রন্থাগার, লার্নার কোচিং সেন্টার।

বুরুঙ্গারচর গ্রামে সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় কমিটির (বাপা) অতিথিবৃন্দ ও স্থানীয় বিজ্ঞজনদেরসমন্বয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক আলোকপাত করা হয়। তারা এ কর্মসূচিকে একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন।

এলাকার বুরুঙ্গারচর গ্রামের প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজকগণ বৃক্ষ সমাবেশে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে বৃক্ষ রোপনে

মারিয়া ইউনিয়ন বাসীর পক্ষে বাপাকে একটি সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি তাফসিলুল আজিজ, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা-কিশোরগঞ্জ জেলা ইউনিটের সিনিয়র সহসভসপতি সাংবাদিক ও লেখক আমিনুল হক সাদী, দৈনিক নতুন দিন পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক আবু সাঈদ,সাংবাদিক মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, লায়ন এস এম জাহাঙ্গীর আলম, ভোরের আলো সাহিত্য আসর এর সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক আবুল কাসেম,গ্রন্থপ্রেমি আলমগীর অলিক, ভোরের আলোর প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আরিয়ান ফারসী, কবি হীরণ আকন্দ প্রমুখ। বক্তারা বলেন,আবহাওয়ার বিশুদ্ধতায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর কাজ অব্যাহত থাকবে। অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতেও বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তাপ-মাত্রার ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর পরিধি বৃদ্ধি করা প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য।


জানা গেছে কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও খরচে কয়েক হাজার গাছ লাগিয়েছেন বৃক্ষপ্রেমি হোসাইন আলমগীর। তাঁর দাবি, গত ৩৭ বছরে তিনি কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৫০ হাজার ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগিয়েছেন। এর মধ্যে তিন হাজারের অধিক তালগাছ রয়েছে।  হোছেন আলমগীরের বাড়ি টাঙ্গাইলে। তবে ১৪ বছর ধরে চাকরির সুবাদে তিনি কিশোরগঞ্জ শহরে থাকেন। আলমগীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পদে চাকরি করেন। স্কুলজীবন থেকেই গাছের প্রতি ভালোবাসা আলমগীরের। তাঁর ছোটবেলা কেটেছে ঢাকার ধামরাই এলাকায়। সেই সুবাদে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাওয়া-আসা ছিল। স্মৃতিসৌধ এলাকায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও রাষ্ট্রদূতদের হাতে লাগানো গাছ ও এর গায়ে লাগানো সাইনবোর্ড দেখে বৃক্ষরোপণের প্রতি আলমগীরের আগ্রহ জন্মায়। 

এরপর থেকে নিয়মিত গাছ লাগানো শুরু করেন আলমগীর। তিনি যখন শরীফবাগ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার ছাত্র, তখন টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে একটি চামেলি ফুলের গাছ লাগিয়েছিলেন। প্রায় ৩৩ বছর আগে রোপণ করা সেই চামেলিগাছের ফুল এখনো সৌরভ ছড়াচ্ছে সেখানে। ছাত্রজীবনে নিজের পকেট খরচের টাকা বাঁচিয়ে আলমগীর গাছ লাগাতেন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে ঢাকায় পড়াশোনার সময় বিভিন্ন এলাকায় গাছ রোপণ করেন তিনি। পড়াশোনা শেষে চাকরির সুবাদে তিনি কিশোরগঞ্জসহ যখন যেখানেই গেছেন, সেখানেই তিনি তাঁর প্রতি মাসের বেতনের একটা অংশ দিয়ে গাছ রোপণ চালিয়ে গেছেন। 

আলমগীর বলেন, ‘১৪ বছর ধরে কিশোরগঞ্জে আছি। এই সময়ের মধ্যে প্রতি মাসেই বেতনের একটা অংশ দিয়ে গাছ কিনি। গাছ কেনা আমার মাসিক খরচের তালিকার মধ্যে পড়ে গেছে। কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, খেলার মাঠ, জেলখানা, মানুষের বাড়ির আঙিনা, রাস্তার আশপাশ ও নদীর পাড়ে ফলদ, বনজ ও ঔষধি নানা প্রজাতির গাছ লাগিয়েছি।’ 

কিশোরগঞ্জ শহরতলিতে অবস্থিত জেলখানায় ডেউয়া, মিষ্টি তেঁতুল, মিষ্টি কামরাঙা, সফেদা, গোলাপজাম, মাল্টা, জাতীয় ফল কাঁঠালসহ দুই শতাধিক ফলের গাছ রোপণ করেছেন আলমগীর। এ ছাড়া শহরের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠ, মুক্তমঞ্চ ও নরসুন্দা নদীর দুই পাড় মিলিয়ে প্রায় এক হাজার পাঁচ শ গাছ নিজ হাতে লাগিয়েছেন তিনি। আলমগীরের লাগানো দুর্লভ আগরগাছ, দুই রকমের কৃষ্ণচূড়া, দুই রকমের জাম, লম্বুগাছ ও নদীর কিনারে আলমগীরের লাগানো হাজারের বেশি তালগাছ এখন মানুষকে ছায়া দিচ্ছে।  শুধু গাছ রোপণই করেননি আলমগীর, নিয়মিত এগুলো দেখভাল ও পরিচর্যার কাজ তিনি নিজ খরচে করেন। গাছের যত্ন নিতে নিজের খরচে অনেক সময় শ্রমিকও নেন। এ ছাড়া যাঁরা গাছ লাগানোর বিষয়ে আগ্রহী, তাঁদের এ বিষয়ে বিনা মূল্যে নানা রকম পরামর্শ দেন আলমগীর।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে