তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয়ের মতো ভয়াবহ ব্যাধি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। তিনি বলেন, একটি সুস্থ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে নিয়মিত ক্রীড়া চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যায় নাটোরের লালপুর ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত ক্লেমন লালপুর ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর মেগা ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ ও উপযুক্ত খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। প্রতিটি ইউনিয়নে মিনি স্টেডিয়াম নির্মিত হলে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে খেলাধুলা করতে পারবে এবং ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হবে।”
তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা শুধু শারীরিক সুস্থতাই নয়, বরং শৃঙ্খলা, নেতৃত্বগুণ ও দেশপ্রেম গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশের যুবসমাজকে ক্রীড়ামুখী করতে সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করছে। “ক্রীড়ায় শক্তি, ক্রীড়ায় বল- মাদক ছেড়ে মাঠে চল”স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করে লালপুর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আশিকুজ্জামান রুবেল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরকত উল্লাহ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবির হোসেন, লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পপ্পু, গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিক আলী মিষ্টু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ রনজুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ফাইনালে অংশগ্রহণকারী লালপুরের হোয়াইট ওয়ারিয়র্স এবং যশোরের রাইজিং সান ক্রিকেট দল-এর প্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনার আহ্বান জানান। এ কার্যক্রমে ব্যক্তিগতভাবে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
মেগা ফাইনালে লালপুরের হোয়াইট ওয়ারিয়র্সকে ৩ উইকেটে হারিয়ে যশোরের রাইজিং সান ক্রিকেট দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। খেলা শেষে প্রধান অতিথি বিজয়ী দলের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ও ১ লাখ টাকার প্রাইজমানি এবং রানারআপ দলের হাতে ট্রফিসহ ৫০ হাজার টাকার প্রাইজমানি তুলে দেন। ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত এ আয়োজন শুধু একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার এক শক্তিশালী সামাজিক বার্তাও ছড়িয়ে দেয়।