মুক্তাগাছায় সনাকের মানববন্ধন

নবায়নযোগ্য জ্বালানি রুপান্তরে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি

এফএনএস (মোঃ ফেরদৌস; মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ) : | প্রকাশ: ৭ জুন, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
নবায়নযোগ্য জ্বালানি রুপান্তরে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি

“পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন: এখনই সময় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরে কার্যকর পদক্ষেপের” এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে মুক্তাগাছায় একটি মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) মুক্তাগাছা এর উদ্যোগে রবিবার বেলা সাড়ে ১০টায় মুক্তাগাছা প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

মানববন্ধনে ‘এখনই জলবায়ু পদক্ষেপের সময়’ (ঘড়ি ঋড়ৎ ঈষরসধঃব) স্লোগানকে সামনে রেখে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং অভিযোজনের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একইসাথে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত হ্রাস করতে এবং পরিচ্ছন্ন, সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং টেকসই জ্বালানির উৎস যেমন সৌর, বায়ু ও পানি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়েছে।  এছাড়া উক্ত খাতে আইনের ঘাটতি, বিদ্যমান আইনের সীমিত প্রয়োগ এবং পরিবেশ বান্ধব বিনিয়োগ অবকাঠামোর অভাব নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তরসহ বাংলাদেশের পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরে তা মোকাবেলায় প্রয়োজনী পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে। সনাক সদস্য ও মুক্তাগাছা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম ইদ্রিছ আলীর সভাপতিত্বে  স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইয়েস সদস্য ও সাবেক দলনেতা খুশনুর আলম। ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ইয়েস সদস্য মোহাম্মদ আবু নাইম। 

মানববন্ধনে সনাক মুক্তাগাছা, টিআইবি কর্তৃক সংশ্লিষ্ট অংশীজনের জন্য নিম্নলিখিত সুপারিশসমূহ তুলে ধরা হয়- ১. জ্বীবাশ্মভিত্তিক উৎস থেকে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে স্থানান্তরের জন্য একটি সময়োপযোগী ও সমন্বিত জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করতে হবে; ২. নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। এই খাতসংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য কর হ্রাস করতে হবে এবং ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করতে ভর্তুকি ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে; ৩. নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে; ৪. কার্যকর জলবায়ু প্রশমনের জন্য বৈদ্যুতিক যানবাহন ও সোলার প্যানেল ব্যাটারিসহ বিবিধ যন্ত্রাংশকে ‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২১’ এর আওতায় বর্জ্যর শ্রেণীবিভাগের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে; ৫. পরিবেশ আদালত আইন ২০১০ সংশোধন করতে হবে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বা জনস্বার্থে ভুক্তভোগী ও সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিবেশ আদালতে সরাসরি মামলা করার সুযোগ তৈরি করতে হবে; ৬. পরিবেশ বিষয়ক সংঘঠিত অপরাধ বন্ধে বিদ্যমান আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে; ৭. পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলা সংক্রান্ত আইন, নীতি ও পরিকল্পনায় জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অভিযোজন ও টিকে থাকার ক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত কার্যক্রমে প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ করতে হবে; ৮. জলাভূমি দখল ও বন উজাড় বন্ধের মাধ্যমে পরিবেশের উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর প্রাকৃতিক সম্পদকেন্দ্রিক অভিযোজনের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে; ৯. প্লাস্টিক দূষণসহ অকার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা ঢেলে সাজাতে হবে; ১০. দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট ই-বর্জ্য কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে তার নির্দেশনা সম্বলিত একটি ‘দুর্যোগকালীন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রটোকল’ প্রস্তুত করতে হবে; ১১. পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার সংক্রান্ত কার্যক্রমে অনিয়ম-দুর্নীতিসহ বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সরকারের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে; ১২. জ্বালানি ও পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এই খাতগুলোতে সংঘটিত অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্তপূর্বক দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে