পাবনার চাটমোহর পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী ও উপসহকারি প্রকৌশলীর নানা অনিয়ম,দূর্নীতি এবং নির্বাচিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ না দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদের প্রধান গেটে চাটমোহর নাগরিক কমিটির আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন নির্বাচিত ঠিকাদার ইহাম কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মোঃ রফিকুল ইসলাম,বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন মাসুম,উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মোন্তাজ আহমেদ প্রমুখ। এসময় বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম লিখন বিশ্বাস,ঠিকাদার শাহজাহান আলীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন,চাটমোহর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি প্রকৌশলী রাফিউল বারী ও উপ-সহকারি প্রকৌশলী আঃ আজিজ পৌরসভায় নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছে। ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করছেন। তদন্ত করলেই প্রমাণ মিলবে। সম্প্রতি ৩৭ লক্ষাধিক টাকার একটি কাজের টেন্ডার আহবান করা হলে অনেকেই দরপত্র দাখিল করেন। দরপত্রের লটারিতে ইহাম কনস্ট্রাকশন বিজয়ী হয়। কিন্তু ওয়ার্ক অর্ডার দিতে সহকারি প্রকৌশলী মোটা টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় ওয়ার্ক অর্ডার না দিয়ে পূর্বের লটারি বাতিল করে পুনরায় লটারী করেন। সেখানে মোটা টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে কাজ পাইয়ে দেন এই কর্মকর্তা। মানববন্ধনে বক্তারা ইহাম কনস্ট্রাকশনকে ওয়ার্ড অর্ডার দেওয়াসহ অসাধু দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। মানবন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা পরিষদ চত্বর প্রদক্ষিণ করে।
এ ব্যাপারে চাটমোহর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি প্রকৌশলী রাফিউল বারী গণমাধ্যমকে বলেন,পূর্বে কোন লটারী হয়নি,কাউকে কোন ইউনার লেটারও দেওয়া হয়নি। একবারই লটারী হয়েছে। তিনি দাবি করেন,ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইহাম কনস্ট্রাকশনের কাগজপত্র সঠিক ছিলো না। এখানে কোন অনিয়ম করা হয়নি। প্রথমবার লটারী করার পর সাংবাদিকদের কেন বলা হয়েছিল,ইহাম কন্ট্রাকশন কাজ পেয়েছে,কোন অনিয়ম হয়নি,এখন কেন উর্টৈা কথা বলছেন-এমন প্রশ্নের কোন জবাব তিনি দেননি।
অতি সম্প্রতি পৌরসভার আফ্রাতপাড়া মহল্লার জনৈক রিপনের বাড়ি থেকে হারুনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার আরসিসি কাজের টেন্ডার আহবান করা হয়। যার বরাদ্দ ৩৭ লাখ ১৫ হাজার ৪২৭ টাকা। ই টেন্ডারের মাধ্যমে লটারী শেষে কাজ পান মেসার্স ইহান কনস্ট্রাকশনের মোঃ রফিকুল ইসলাম। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও রহস্যজনক কারণে কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া হয়নি। ঠিকাদার মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান,‘কার্যাদেশ আনতে গেলে তার কাছে টাকা চাওয়া হয়। টাকা না দিয়ে কার্যাদেশ পাওয়ার জন্য পৌরসভার প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন। তারপরও ২য়বার লটারী করে অন্যকে ঠিকাদার নির্বাচিত করা হয়। রফিকুল ইসলাম এবার আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানান। কারণ তাকে দেওয়া আদেশ বাতিল করার কোন চিঠি তিনি পাননি।