উচ্চ শুল্কহারে দেশে ব্যাহত হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ সমপ্রসারণ কার্যক্রম

এফএনএস এক্সক্লুসিভ | প্রকাশ: ৯ জুন, ২০২৬, ০৮:২০ এএম
উচ্চ শুল্কহারে দেশে ব্যাহত হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ সমপ্রসারণ কার্যক্রম

উচ্চ শুল্কহারে দেশে ব্যাহত হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ কার্যক্রম। কারণ সৌরবিদ্যুৎ খাতের অধিকাংশ যন্ত্রপাতিই বর্তমানে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। কিন্তু উচ্চ কর ও শুল্কের কারণে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে ওসব পণ্যের আমদানি খরচ। বিশেষ করে ডিসি ক্যাবল, ব্যাটারি প্যাক, ব্যাটারি সেল ও অ্যালুমিনিয়াম মাউন্টিং স্ট্রাকচারের মতো পণ্যে ৫৮ দশমিক ৪০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক গুনতে হয়। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি, ডিসি ক্যাবলসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানিতে বর্তমানে আরোপ রয়েছে ২৫ থেকে ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত মোট কর বা টোটাল ট্যাক্স ইনসিডেন্স (টিটিআই)। যা দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বড় বাধা। তাছাড়া হাইব্রিড কন্ট্রোলারের ওপর করের হার ৮৯ দশমিক ৮ শতাংশ হওয়ায় আরো বাড়ছে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের খরচ। তাতে প্রত্যাশিত গতি পাচ্ছে না শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে সৌরবিদ্যুতের সমপ্রসারণ। সৌরবিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে বর্তমানে সোলার পিভি মডিউলে ২৬ দশমিক ৯০ শতাংশ, ফটোভোলটাইক সেলে ২৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ, সোলার ইনভার্টারে ২৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ, ডিসি ক্যাবলে ৫৮ দশমিক ৪০ শতাংশ, মনিটরিং ইউনিটে (ডাটা লগার) ৩৭ দশমিক ২৫ শতাংশ, অ্যালুমিনিয়াম মাউন্টিং স্ট্রাকচারে ৫৮ দশমিক ৪০ শতাংশ, ব্যাটারি প্যাকে (রেডিমেড) ৫৮ দশমিক ৪০ শতাংশ, ব্যাটারি সেলে ৫৮ দশমিক ৪০ শতাংশ, সার্কিট বোর্ডে (বিএমএস) ৩১ দশমিক ৫০ শতাংশ, অন্যান্য প্যাক ম্যাটেরিয়ালসে ৩৭ দশমিক ২৫ শতাংশ, পিভি ডিজি কন্ট্রোলারে (হাইব্রিড কন্ট্রোলার) ৮৯ দশমিক ০৮ শতাংশ, সোলার প্ল্যান্ট সেফটি অ্যালুমিনিয়াম ওয়াকওয়ে মেশিন আমদানির ক্ষেত্রে ৩৭ দশমিক ২৫ শতাংশ কর দিতে হয়। যদিও সৌরখাতের সমপ্রসারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে কাস্টমস ডিউটি যৌক্তিকীকরণ, মূল্যায়ন পদ্ধতির সংস্কার এবং কর অবকাশ প্রদানের প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ) সম্প্রতি চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে সংগঠনটি সোলার পণ্য আমদানিতে মোট করহার শূন্যে নামিয়ে আনার প্রস্তাবব দিয়েছে।

সূত্র জানায়, সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে বর্তমানে ওয়েট বেজড অ্যাসেসমেন্ট বা কেজিভিত্তিক শুল্কায়ন প্রত্যাহার করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ট্রান্সজেকশন ভ্যালুভিত্তিক প্রকৃত লেনদেন মূল্য অনুযায়ী মূল্যায়ন পদ্ধতি কার্যকর করা উচিত। পাশাপাশি বিভিন্ন মেয়াদে কর অবকাশও প্রয়োজন। ওপদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হলে স্বল্প সময়েই দেশে রুফটপ সৌর প্যানেল স্থাপনের সংখ্যা বাড়বে। তাতে জাতীয় গ্রিডের ওপর পিক-লোড চাপ কমবে। ফলে জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমে বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে। তাতে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর মাধ্যমে জোরদার হবে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা। ফলে শিল্পখাতে বিদ্যুৎ ব্যয়ে প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে আনা, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জাতীয়ভাবে নির্ধারিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গতি আসবে।

এদিকে এ প্রসঙ্গে বিএসআরইএ’র সেক্রেটারি এএসএম মুনির জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাজার সমপ্রসারণের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কয়েকটি ফ্যাক্টর কাজ করছে। তার মধ্যে উচ্চ শুল্কহার অন্যতম। সারাদেশেই রুফটপ সোলার বা সৌর বিদ্যুৎ বসাতে কোনো ফাইন্যান্সিয়াল মেকানিজম নেই। কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক এক্ষেত্রে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। টার্ম লোন দিলেও এ ধরনের প্রকল্পের ক্ষেত্রে তা সুইটেবল নয়। এর জন্য স্পেশাল স্কিম লোন দরকার। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কথা হয়েছে। সরকারও নবায়নযোগ্য পণ্য আমদানিতে শূন্য ডিউটি করার কথা ভাবছে।