আইএমএফের ঋণ

শর্ত বাস্তবায়নে বিচক্ষণতা জরুরি

এফএনএস
| আপডেট: ৯ জুন, ২০২৬, ০৪:১০ পিএম | প্রকাশ: ৯ জুন, ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
শর্ত বাস্তবায়নে বিচক্ষণতা জরুরি

আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে নতুন ঋণ নেওয়ার প্রাথমিক আলোচনা ও নীতিগত সম্মতি দেশের অর্থনৈতিক সংকটের গভীরতাকে স্পষ্ট করে। তবে এই ঋণের বিপরীতে সংস্থাটি যে পাঁচটি কঠোর শর্ত দিয়েছে, তা সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনযাত্রার ওপর গভীর উদ্বেগের ছায়া ফেলছে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতসহ বিভিন্ন খাত থেকে ভর্তুকি প্রত্যাহার, রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং কর ছাড় কমানো। ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দিলে আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমদানিকৃত কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে, ফলে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হবে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সংকুচিত হবে, জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। অন্যদিকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি শূন্যে নামিয়ে আনার শর্ত বাস্তবায়ন করলে উৎপাদন ও সেবা খাতের ব্যয় বিপুলভাবে বাড়বে। প্রতিটি পণ্য ও সেবার মূল্য নাগালের বাইরে চলে যাবে, জনজীবন তীব্র সংকটে পড়বে। আইএমএফের যুক্তি হলো, ডলারের দাম বাড়লে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স বাড়বে এবং একপর্যায়ে বাজার স্থিতিশীল হবে। কিন্তু এই দীর্ঘমেয়াদি সুফলের অপেক্ষায় থেকে স্বল্পমেয়াদে সাধারণ মানুষ যে তীব্র মূল্যস্ফীতির কবলে পড়বে, তা সহ্য করার ক্ষমতা কতটুকু আছে, সেটিই মূল প্রশ্ন। আমাদের মতে, সরকারের উচিত হবে আসন্ন আইএমএফ মিশনের সঙ্গে আলোচনায় অত্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দেওয়া। শর্ত বাস্তবায়নের সময়সীমা যেন স্বল্পমেয়াদে সাধারণ মানুষের ওপর চরম আঘাত না হানে, সেজন্য দীর্ঘমেয়াদি ও পর্যায়ক্রমিক রূপরেখা তৈরি করতে হবে। সংস্কার অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তা যেন আপামর জনগণের জীবনযাত্রাকে অচল করে না দেয়। জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের ভেতরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অপচয় রোধ এবং ভর্তুকি পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে এই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। আমাদের প্রত্যাশা, সরকার জনজীবনের বাস্তব সংকটকে সামনে রেখে আইএমএফের শর্তগুলো বাস্তবায়ন করবে। সংস্কার হবে, তবে তা যেন মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ না করে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে