জাতীয় সংসদের উচ্চ কক্ষে ২০০ আসনবিশিষ্ট শ্রেণি-পেশাভিত্তিক অদলীয় নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে রংপুর প্রদেশ বাস্তবায়ন পরিষদ। পরে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর ১২টায় রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন রংপুর প্রদেশ বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক এবিএম মশিউর রহমান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রংপুর প্রদেশ বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুস সাদেক জিহাদী, সহ-সভাপতি সাদেকুর রহমান, সদস্য সার্জেন্ট আতিয়ার রহমান, রংপুর জেলা রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক অধ্যাপক চিনু কবির এবং বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট রায়হান কবির।
বক্তারা বলেন, দেশের বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হওয়ায় জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না। দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের উচ্চ কক্ষে ২০০ আসনের অদলীয় শ্রেণিভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে আমিন উদ্দিন বলেন, “স্বাধীন দেশের উপযোগী অংশীদারিত্বমূলক রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তুলতে হলে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের সরকার, জনগণের শাসন ও জনগণের রাষ্ট্র কাঠামো প্রতিষ্ঠার জন্য জাতীয় পর্যায়ে সংলাপ প্রয়োজন।”
ডা. আব্দুস সাদেক জিহাদী বলেন, “রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত বৈষম্য দূরীকরণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এক ব্যক্তির দুই ভোট ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ও আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে রংপুর প্রদেশসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোট নয়টি প্রদেশ গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে।”
বক্তারা আরও দাবি করেন, প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা চালু করে প্রতিটি প্রাদেশিক পার্লামেন্টে এক-তৃতীয়াংশ শ্রেণি-পেশাভিত্তিক নির্বাচিত প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করে ১৫০ সদস্যের প্রাদেশিক পার্লামেন্ট গঠন করতে হবে। পাশাপাশি একটি কার্যকর ফেডারেল সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধন শেষে সংগঠনের নেতারা জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত সংস্কার, ক্ষমতার অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি, আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং শ্রেণি-পেশাভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।