দেশে হাম ও এর উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে শতাধিকের বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ফলে চলমান এই রোগ পরিস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে সোমবার (১৫ জুন) দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোববার (১২ জুন) সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই চার শিশুর মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে একজন নিশ্চিত হাম রোগী এবং তিনজন সন্দেহজনক উপসর্গে আক্রান্ত ছিল।
গত কয়েক মাস ধরে দেশে হামের বিস্তার ক্রমেই বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৬ হাজার ৯২৩ জনে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭১ হাজার ৪৬৭ জন শিশু, আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৬৭ হাজার ৮৭৮ জন।
এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের, আর সন্দেহজনক উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬৩ জনে। ফলে সব মিলিয়ে পরিস্থিতি শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কাভারেজ কমে যাওয়া এবং সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়ার প্রবণতাই এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তারা বলছেন, দ্রুত শনাক্তকরণ ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদার না করলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আরও বলা হচ্ছে, শহর ও গ্রামাঞ্চলে সমানভাবে সচেতনতা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই রোগী দেরিতে হাসপাতালে আসছে, যা মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৭২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে, আর নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ৬৪ জন। সব মিলিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন হাজার হাজার শিশু।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ জরুরি, না হলে আগামী দিনগুলোতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।