পুরোনো রেল নিলামে বিক্রি নয়, নিরাপত্তার কাজে পুনর্ব্যবহার, সংসদে জানাল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৫ জুন, ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
পুরোনো রেল নিলামে বিক্রি নয়, নিরাপত্তার কাজে পুনর্ব্যবহার, সংসদে জানাল সরকার

বাংলাদেশ রেলওয়ের পুরোনো ও অকেজো রেললাইন উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করা হবে না। এসব রেল নিরাপত্তা ও অবকাঠামো সুরক্ষার বিভিন্ন কাজে পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে সংস্কার এবং চালকদের বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সপ্তম দিনে সংসদ সদস্যদের পৃথক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনিরের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন লাইনে বর্তমানে ট্র্যাক রিনিউয়ালের কাজ চলছে। এ সময় ব্যবহারযোগ্য রেলগুলো সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এলাকায় সাময়িকভাবে সংরক্ষণ করা হয় এবং পরে রেল প্রতিস্থাপনের কাজে ব্যবহার করা হয়। কাজ চলাকালে পুরোনো রেল অগোছালো অবস্থায় দেখা গেলেও প্রকল্প শেষ হলে সেগুলো নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হয়।

অকেজো রেল নিলামে বিক্রি না করার কারণ ব্যাখ্যা করে শেখ রবিউল আলম বলেন, "এসব রেল এমব্যাঙ্কমেন্ট প্রটেকশন বা বাঁধ সুরক্ষা এবং বিভিন্ন অবৈধ লেভেলক্রসিংয়ে রেলফেন্সিংয়ের কাজে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।" তিনি জানান, এতে রেলওয়ের নিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় এসব রেল উন্মুক্ত নিলামে বিক্রির সুযোগ নেই।

একই দিনে সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, জেলা, আঞ্চলিক ও জাতীয় মহাসড়কের যেসব স্থানে বারবার দুর্ঘটনা ঘটে, সেসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে সংস্কার কাজের পাশাপাশি সাইন সিগন্যাল, স্পিডব্রেকার, জেব্রা ক্রসিং এবং রাম্বল স্ট্রিপ স্থাপনের কাজ চলছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি জনসচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি "বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প" বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ও গুরুতর আহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা।

চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগের কথাও তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পেশাদার চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের আগে বাধ্যতামূলক রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ চালু করা হয়েছে। তার ভাষায়, "ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অদক্ষ চালকের কারণে মহাসড়কে যে প্রাণহানি ঘটে, তা কমাতে এই প্রশিক্ষণ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করছি।"

সরকারের এই দুই পদক্ষেপে একদিকে যেমন রেলওয়ের সম্পদের পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের মাধ্যমে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমানোর উদ্যোগও জোরদার করা হচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে