টেকনাফে বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদীর মোহনা এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে ৭ বাংলাদেশী জেলেকে দুটি ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার বোটসহ আটক করে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। সোমবার (১৫ জুন) শাহপরীরদ্বীপ সংলগ্ন সমুদ্রসীমায় এ ঘটনা ঘটে। অপহৃত জেলেরা হলেন ফয়সাল (২৬), জলিল (১৬), আজম (১২), হেলাল (১১), লালাইয়া (১৯), সৈয়দ আলম (২১) ও ফয়সাল (২২)। তারা সবাই টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ এলাকার বাসিন্দা। আটক হওয়া দুটি মাছ ধরার বোটের মালিক শাহপরীর দ্বীপের কোনাপাড়া এলাকার মো. আবদুর রাজ্জাক (৪০)।
স্থানীয় জেলেরা জানান, শাহপরীরদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব পাড়া ঘাট থেকে দুটি ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার বোট নিয়ে মাছ শিকারে যান জেলেরা। মাছ ধরে ফেরার পথে তারা অনিচ্ছাকৃতভাবে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করলে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের আটক করে নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে বাংলাদেশী জেলেরা প্রায়ই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হয়রানি ও আটকের শিকার হন। তারা আটক জেলেদের দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
শাহপরীরদ্বীপ ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান জানান, ২ বিজিবির অধীনস্থ শাহপরীরদ্বীপ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় মিয়ানমারের নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকার কাছে জেলেদের আটক করা হয়।
বিকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম. অনীক চৌধুরী জানান, কোস্ট গার্ডের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে জেলেদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে ৭ জন জেলেকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জেলেরা ভুলবশত মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করায় তাদের আটক করা হয়েছে। তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।