বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ, আড়াই ঘণ্টা পর তেজগাঁওয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৬ জুন, ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ, আড়াই ঘণ্টা পর তেজগাঁওয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক

মে মাসের বকেয়া বেতন ও এরিয়ার বিল পরিশোধসহ সাত দফা দাবিতে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নাসা গ্রুপের পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। প্রায় আড়াই ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর পুলিশ ও মালিকপক্ষের আশ্বাসে শ্রমিকরা আন্দোলন প্রত্যাহার করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে শ্রমিকরা মহাখালী-তেজগাঁও প্রধান সড়কের লাভ রোডসংলগ্ন অংশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

শ্রমিকদের অভিযোগ, মে মাসের বকেয়া বেতন ও এরিয়ার বিল পরিশোধ না করেই ঈদের ছুটির পর বিনা নোটিশে কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্তে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বেতন-ভাতা না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ে বাধ্য হয়ে রাজপথে নামতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

অবরোধের কারণে তেজগাঁও ও মহাখালী এলাকার প্রধান সড়ক ছাড়াও বিভিন্ন সংযোগ সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। শত শত যানবাহন আটকে থাকায় অফিসগামী যাত্রী ও সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেককে গণপরিবহন না পেয়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা-পুলিশ। শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের আলোচনা শুরু হয়। পরে আশ্বাসের ভিত্তিতে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, “শ্রমিকদের বুঝিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সড়কে যান চলাচল শুরু হয়, এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।”

পুলিশ জানায়, নাসা গ্রুপের প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন শ্রমিক অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেন। শ্রমিকদের সড়কে অবস্থানের কারণে মূল সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছিল।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, বকেয়া বেতনসহ কয়েকটি দাবিতে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেছিলেন। পরে পুলিশ ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতির সমাধান করেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে