হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

এফএনএস (মমিনুল ইসলাম রিপন; রংপুর) : | প্রকাশ: ১৭ জুন, ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম
হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

হিমাগারের সংরক্ষণ ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে  দ রংপুরে ছয়লেনের মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন মালিক কর্তৃপক্ষ সিন্ডিকেট করে ভাড়া বাড়িয়ে দেয় মহা লোকসানে পড়েছেন। এসময় সারা দেশের সাথে রংপুর বিভাগের সাত জেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকে। অবরোধে একাত্মতা ঘোষণা করেন জেলা বিএনপির সদস্য লিটন পারভেজ,  জেলা কৃষক দলসভাপতি আনোয়ার সাদতের নেতৃত্বে  সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বুধবার (১৭ জুন) বেলা ১২ টা থেকে নগরীর মর্ডান মোড়ের তুলা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে ছয় লেনের রাস্তায় অবরোধ গড়ে তোলেন চাষী এবং ব্যবসায়ীরা। জেলা আলু চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেন পাঁচ শতাধিক চাষী ও ব্যবসায়ী।  তারা মহাসড়কে আলু ফেলে দিয়ে বিক্ষোভ  প্রদর্শন করেন। এর আগে সড়কের অটোর লেনে  লেন তারা সেখানে মানববন্ধন করেন। অবরোধের কারণে রংপুর বিভাগের ৭ জেলার সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ ১ ঘন্টা বন্ধ থাকে.। দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যায়। ভ্যাপসা গরমে নাভির শ্বাস উঠে যায় যাত্রীদের। অবরোধ চলাকালে বক্তব্য রাখেন, জেলা আলু চাষি সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ বণিক, সহ-সভাপতি আব্দুন নূর, জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক আনোয়ার সাদাত, সদস্য সচিআ দিল মেরাজুল দুলু প্রমুখ। 

পরে বেলা একটায় বৃহস্পতিবার  ডিসির সাথে বৈঠক করা পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। পরে তাজহাট থানা পুলিশ এবং ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতায় আরো আধা ঘন্টা পর সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। এ সময় আলু চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান অভিযোগ করেন, "  হিমাদার অ্যাসোসিয়েশন এসি রুমে বসে প্রতি ৬০ কেজি বস্তা আলুর জন্য সংরক্ষণ মূল্য ৪৩০ টাকা করেছে। এতে প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ মূল্য পড়ছে প্রায় সাত টাকা। ফলে এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ দাড়াচ্ছে ২৪ টাকার উপরে। কিন্তু বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ১৬  থেকে ১৭ টাকায়। 

তৌহিদ তৈয়বুর রহমানের অভিযোগ, "হিমাগার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুর পরামর্শই এসব করা হচ্ছে। তিনি ১০টিও বেশি কোল্ড স্টোরেজের মালিক হওয়ায় পুরো অ্যাসোসিয়েশনকে সিন্ডিকেট করে রেখেছেন। সে কারণেই রংপুর বিভাগের কোল্ডস্টোরেজ গুলোতে প্রতিবছর প্রতি বস্তায় ১০০ টাকারও বেশি বাড়ানো হচ্ছে। অথচ মুন্সীগঞ্জে একই পরিমাণ আলুর ভাড়া ২৮০ টাকা। তাহলে রংপুরে কেন ৪৩০ টাকা হবে। দূরের সিন্ডিকেটের কারণে এই পরিস্থিতি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। 

তৈয়বুর রহমান বলেন,  সর্বোচ্চ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে হিমাগার সংরক্ষণের ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে। এই দাবিতে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের সাথে আলাপ আলোচনা করার পর সমাধান না হলে লাগাতার অবরোধ সহ কঠোর আন্দোলনে যাব আমরা। " অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া প্রতি কেজি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা বদলে আমরা ৬ টাকা ৩২ পয়সা করে সংরক্ষণমূল্য নিচ্ছি। এখানে কোন সিন্ডিকেট নেই। আমরা সরকারের কাছে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে উপস্থাপন করে ভাড়া বাড়ানোর দাবি করেছি। যারা এসব আন্দোলন করছে, মব তৈরির চেষ্টা করছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিত। এছাড়াও যদি কেউ সরকার নির্ধারিত ৬ টাকা ৭৫ পয়সা কেজির বেশি নেয় সেই হিমাগার মালিকদের কেও আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন তিনি।  তাজহাট থানার ওসি আতাউর রহমান জানান,  " আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা কোল্ড স্টোরেজদের মূল্য কমানোর দাবিতে অবরোধ করেছিলেন। বেলা একটাই তারা অবরোধ স্থগিত করেন। দেড়টার মধ্যে আমরা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে