প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরমের সঙ্গে ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে নাকাল হয়ে পড়েছেন নীলফামারীর সৈয়দপুরের মানুষ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট অব্যাহত থাকায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। গত কয়েকদিন ধরে সৈয়দপুরে তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি না হলেও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় অসহনীয় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। এর মধ্যেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
শহরের রসুলপুর,কাজীপাড়া, নতুন বাবুপাড়া, মুন্সিপাড়া, বাঙ্গালীপুর, রেলওয়ে কলোনিসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দিনে কয়েকবার এবং রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। অনেক সময় ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন, সারাদিন গরমের পর রাতে একটু স্বস্তি পাওয়ার আশা করি। কিন্তু ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঘুমানোই দায় হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে দোকানপাট ও ছোট শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্রিজ ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিনির্ভর ব্যবসায় ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।
সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত গরমে ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে। এজন্য সবাইকে পর্যাপ্ত পানি পান ও প্রয়োজন ছাড়া রোদে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিডে চাহিদা বৃদ্ধি এবং কারিগরি কারণে সাময়িকভাবে কিছু এলাকায় লোড ব্যবস্থাপনা করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা কাজ করছেন বলে দাবি করেন। তবে সাধারণ মানুষের দাবি, ভ্যাপসা গরমের এই সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।