মানববন্ধনে হঠাৎ উপস্থিত অভিযুক্ত শিক্ষক, অতঃপর

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১৮ জুন, ২০২৬, ১১:২৩ এএম
মানববন্ধনে হঠাৎ উপস্থিত অভিযুক্ত শিক্ষক, অতঃপর

হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখল, জঙ্গি প্রশিক্ষক ও প্রতারক আখ্যায়িত করে অবিলম্বে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে চলছিলো মানববন্ধন। হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যানারে এ মানববন্ধন চলাকালীন হঠাৎ করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন অভিযুক্ত নিজেই। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি মানববন্ধনের মাইক হাতে নিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বক্তব্য রাখেন। বিরল দৃষ্টান্তের এ বিষয়টি মুহুর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে গোটা বরিশালজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে। উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়ন হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। ওই মানববন্ধনের অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন মুফতি মো. মাসউদ হাসান ফিরোজ। তিনি চরমোনাই কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক ও উজিরপুর উপজেলার জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ওই মাদরাসা শিক্ষক ও তার পরিবারের ওপর হামলার প্রতিবাদে উজিরপুর উপজেলা চত্বরে গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীন হাওলাদারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালীন থানা পুলিশের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত শাহিন হাওলাদারের নেতৃত্বে তার সহযোগিরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় উজিরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ওই ঘটনার পাঁচদিন পর বুধবার বেলা এগারোটার দিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যানারে ওই মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে বরিশাল নগরীতে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এ কর্মসূচি চলাকালিন মুফতি মো. মাসউদ হাসান ফিরোজ মানববন্ধনে হাজির হয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মাইকে বক্তব্য রাখেন।

মুফতি মো. মাসউদ হাসান ফিরোজ বলেন, আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন বিএনপি নেতা শাহীন হাওলাদার করিয়েছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে আমার কখনো কোনো ঝামেলা ছিল না, এখনো নেই। একটি মহল আমার কাছে দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরিহ ভাই ও বোনদের দিয়ে জোরপূর্বক মানববন্ধন করাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঠিক তদন্তে আমি যদি দোষী হয়ে থাকি তাহলে যেকোন শাস্তি মাথা পেতে নিতে বাধ্য রয়েছি। তবে মাসউদ হাসান ফিরোজ মানববন্ধনে উপস্থিত হওয়ার পূর্বে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা সুশান্ত কুমার দাস তার বক্তব্যে বলেন, ইসলামী আন্দোলনের নেতা মাসউদ হাসান ফিরোজ আমাদের বসতভিটা ও মন্দিরের জমি দখল করেছেন। সেখানে স্থাপনার নির্মাণ করে তিনি জঙ্গি প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা সত্বেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তাই আমরা বাধ্য হয়ে বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করছি।

এ অভিযোগের ব্যাপারে মুফতি মো. মাসউদ হাসান ফিরোজ বলেন, হিন্দু বাড়ি ও শ্মশান থেকে আমার বাসবভন প্রায় এক কিলোমিটার দূরত্বে। একটি চক্র আমার কাছে দাবিকৃত চাঁদার টানা না পেয়ে আমার ভবন দখলের চেষ্টা করছে।  মুফতি মো. মাসউদ হাসান ফিরোজ আরও বলেন, উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া বন্দর এলাকায় ২০১২ সালে তিনি একটি জমি ক্রয় করেন। ২০১৪ সালে সেখানে একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। এতোবছর কারো কোন খোঁজখবর না থাকলেও অতিসম্প্রতি বিএনপি নেতা শাহিন হাওলাদারের দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দেয়ার কারণে তিনজন হিন্দু ব্যক্তিকে জমির মালিক সাজিয়ে শাহিন ও তার সহযোগিরা ভবনে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাইনবোর্ড সরাতেই গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীন হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক লাভলু চাপরাশিসহ তাদের সহযোগিরা ভবনে হামলা চালায়। ওই হামলায় তার (ফিরোজ) স্ত্রী ও ছোট ছেলে-মেয়ে আহত হয়েছে।হামলার ঘটনায় মুফতি ফিরোজ বাদী হয়ে বরিশাল এটিএম কোর্ট ও জজ কোর্টে দুইটি পৃথক মামলা দায়ের করেন। যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীন হাওলাদার বলেন, আগামীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে আমি একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী। তাই আমার ইমেজকে নষ্ট করার জন্য একটি কুচক্রি মহল ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে নানা অপ্রচার শুরু করেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে