বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াইয়ে জয় ছাড়া বিকল্প ছিল না তুরস্কের। কিন্তু পুরো দ্বিতীয়ার্ধ একজন বেশি খেলোয়াড় নিয়ে খেলেও ১০ জনের প্যারাগুয়ের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। উল্টো ম্যাচের শুরুতে হজম করা এক গোলই হয়ে যায় তাদের বিদায়ের কারণ। ১,০ গোলের হারে টানা দ্বিতীয় পরাজয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেল তুরস্কের।
বাংলাদেশ সময় শনিবার (২০ জুন) সকালে সান ফ্রান্সিসকোয় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই নাটকীয়তা ছিল। খেলা শুরুর মাত্র ৬৫ সেকেন্ডের মাথায় মিডফিল্ডার মাতিয়াস গালারজা দুর্দান্ত শটে প্যারাগুয়েকে এগিয়ে দেন। চলতি বিশ্বকাপে এটিই এখন পর্যন্ত দ্রুততম গোল। এর আগে মরক্কোর ইসমাইল সাইবারির ৭১ সেকেন্ডের গোল ছিল রেকর্ড।
প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২,০ গোলে হেরে চাপে থাকা তুরস্ক গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে প্যারাগুয়ের সংগঠিত রক্ষণভাগ তাদের বারবার হতাশ করে। প্রথমার্ধে হাকান চালহানোলুর ফ্রি কিক থেকে মের্ত মুলদুরের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, যা ছিল তুরস্কের সেরা সুযোগগুলোর একটি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাচে আসে বড় মোড়। প্যারাগুয়ের তারকা মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন তুরস্কের মের্ত মুলদুরের সঙ্গে মুখ ঢেকে কথা বলার ঘটনায় ভিএআরের সহায়তায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বকাপে এ ধরনের ঘটনায় এটিই প্রথম লাল কার্ড।
দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জনের প্যারাগুয়েকে চেপে ধরে তুরস্ক। একের পর এক আক্রমণ, কর্নার আর ক্রস দিয়েও গোলের দেখা পায়নি ইউরোপের দলটি। পুরো ম্যাচে ৭৮ শতাংশ বলের দখল ছিল তাদের। গোলমুখে নেয় ৩৩টি শট, যার ৬টি ছিল লক্ষ্যে। পায় ১২টি কর্নার। ৬৩৮টি পাস দিয়ে ৯০ শতাংশ নিখুঁত পাসের রেকর্ডও গড়ে। কিন্তু পরিসংখ্যানের সেই আধিপত্য স্কোরবোর্ডে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।
অন্যদিকে, মাত্র ২২ শতাংশ বলের দখল নিয়েও প্যারাগুয়ে ম্যাচের শুরুতে পাওয়া সুযোগটি কাজে লাগায় এবং পরে ১০ জন নিয়েই অসাধারণ রক্ষণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। একের পর এক আক্রমণ সামলে শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়ে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
তুরস্কের জন্য হতাশার জায়গা আরও বড়। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩০টি শট নিয়েও গোল করতে পারেনি তারা। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে আরও ৩৩টি শট নিয়েও ব্যর্থ হয়েছে। দুই ম্যাচ মিলিয়ে ৬০টির বেশি শট নিয়েও গোলশূন্য থাকা দলটি কোনো পয়েন্ট ছাড়াই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল।
এই জয়ে প্যারাগুয়ের নকআউট পর্বে ওঠার আশা টিকে থাকল। অন্যদিকে টানা দুই হারে তুরস্কের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তারা এখন কেবল নিয়মরক্ষার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে শক্তিশালী যুক্তরাষ্ট্রের।
ম্যাচ শেষে তুরস্কের খেলোয়াড়দের হতাশা ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছেন, কেউ মুখ ঢেকে রেখেছেন দুই হাতে। বিপরীতে প্যারাগুয়ের ফুটবলাররা উদযাপনে মেতেছেন গুরুত্বপূর্ণ এই জয়কে ঘিরে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম গোলগুলোর একটি এবং ফিফার নতুন নিয়মে প্রথম লাল কার্ডের সাক্ষী হয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকল এই ম্যাচ।