চলতি মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে পাবনার সুজানগর পৌরসভার প্রায় তিন‘শ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি এসব পরিবার সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পন্ন করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৌর সভার ৩নং, ৬নং এবং ৭নং ওয়ার্ডে পানি নিষ্কাশনের তেমন কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। ফলে চলতি মৌসুমে একটু বৃষ্টি হলেই ওই সকল এলাকায় চরম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আর এই জলাবদ্ধতার কারণে ওই ৩টি ওয়ার্ডের প্রায় ৩‘শ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন বলেন একটু বৃষ্টি হলেই আমার বাড়িসহ আশপাশের অর্ধশত বাড়িতে হাঁটু পানি জমি যায়। এ সময় আমাদের পানিবন্দি জীবন যাপন করতে হয়। একই এলাকার বাসিন্দা আতাহার আলী বলেন গত এক সপ্তাহ হলো আমার বাড়ির আঙিনাসহ বসত ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে। পরিবারপরিজন নিয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছি। পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুজানগর মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় একটু বৃষ্টি হলেই আমার বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তায় হাঁটু পানি জমে যায়। এ সময় যাতায়াতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে জলাবদ্ধতান কারণে রাস্তাটি দিয়ে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হয়। পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শফিউল আজম মাস্টার বলেন একদিকে ওই সকল ওয়ার্ডে তেমন কোন কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই, অন্যদিকে পৌরসভার অধিকাংশ এলাকায় প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে অপরিকল্পিত বাড়ি-ঘর ও দোকাপাট। এসব বাড়ি-ঘর ও দোকানপাটের কারণে পানি প্রবাহের নালা গুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তবে ভুক্তভোগী পৌরবাসী বলেন অপরিকল্পিত বাড়ি-ঘর ও দোকানপাট নির্মাণের কারণে নয়, প্রয়োজনীয় কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবার জলাবদ্ধতা দূরিকরণে পৌর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এ ব্যাপারে সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ বলেন জলাবদ্ধতা দূরিকরণে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।