চট্টগ্রামে বাড়ছে খুন ও সন্ত্রাস

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ

এফএনএস | প্রকাশ: ২২ জুন, ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাসী তৎপরতা এবং প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগরে সংঘটিত একের পর এক নৃশংস হত্যার ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিই নয়, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে প্রকাশ্য দিবালোকে সশস্ত্র হামলা, ঘরে ঢ়ুকে নারী ও শিশুর ওপর প্রাণঘাতী আক্রমণ এবং সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ সংঘাতের পেছনে রয়েছে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার, বালি ও মাটি উত্তোলন, মাদক ব্যবসা এবং অবৈধ অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা স্বার্থের দ্বন্দ্ব। এসব অপরাধচক্র রাজনৈতিক পরিচয়, স্থানীয় প্রভাব এবং অর্থনৈতিক স্বার্থকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। ফলে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে সমস্যাটিকে একটি বৃহত্তর অপরাধী নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, একাধিক ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের চেহারা ও কর্মকাণ্ড স্পষ্টভাবে ধরা পড়লেও দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা যেমন বাড়ছে, তেমনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা ও উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। অপরাধীরা যদি প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে পারে, তবে তা অপরাধ দমনে বিদ্যমান দুর্বলতারই ইঙ্গিত দেয়। তবে সমস্যার সমাধান শুধু অভিযানে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। অপরাধের অর্থনৈতিক উৎসগুলো চিহ্নিত করে তা বন্ধ করা জরুরি। অবৈধ বালু উত্তোলন, মাটি কাটা, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ কর্মসূচি এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। চট্টগ্রাম দেশের অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার ও বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা শুধু স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলবে না, বরং বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক উন্নয়নকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের সময় পেরিয়ে গেছে; এখন প্রয়োজন দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ। রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সেই দায়িত্ব পালনে নতুন করে কঠোরতা, দক্ষতা ও জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে