নদী রক্ষা প্রকল্পে ধস

জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি

এফএনএস | প্রকাশ: ২৩ জুন, ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি

নদীভাঙন বাংলাদেশের একটি দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল সমস্যা। প্রতিবছর হাজারো পরিবার বসতভিটা, ফসলি জমি ও জীবিকা হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে। এই বাস্তবতায় নদী তীর সংরক্ষণ ও ভাঙন প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন নদী প্রতিরক্ষা বাঁধের একটি অংশ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়ার ঘটনা উদ্বেগজনক এবং জনমনে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পত্রপত্রিকা থেকে জানা গেছে, যমুনা নদীর সামান্য পানির চাপেই সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যদি অভিযোগ সত্য হয় এবং নির্মাণকাজে নির্ধারিত নকশা ও কারিগরি মান অনুসরণ না করা হয়ে থাকে, তবে এটি শুধু একটি প্রকল্পের ব্যর্থতা নয়; বরং সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার, প্রকল্প তদারকি এবং জবাবদিহির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ বুঝে নেওয়ার আগেই এই ধসের ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ প্রকল্পের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার জন্য এটি যথেষ্ট। একটি নদী প্রতিরক্ষা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো বর্ষা মৌসুমে জনপদকে সুরক্ষা দেওয়া। কিন্তু বর্ষার শুরুতেই যদি নির্মাণকাজের এমন অবস্থা হয়, তাহলে স্থানীয় মানুষের আতঙ্ক ও ক্ষোভ স্বাভাবিক। এ ধরনের ঘটনায় আবেগ নয়, প্রয়োজন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত। প্রকল্পের নকশা, নির্মাণ উপকরণের মান, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং তদারকির প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখা উচিত। কোথাও যদি অবহেলা, অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে জড়িত সব পক্ষের দায়িত্ব ও জবাবদিহি স্পষ্ট করতে হবে। নদীভাঙনপ্রবণ এলাকার মানুষের জন্য সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে বর্ষাকালে নতুন করে ভাঙন ছড়িয়ে না পড়ে। কারণ একটি বাঁধের দুর্বলতা কখনো কখনো শত শত পরিবারের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে। রাষ্ট্র যখন জনগণের নিরাপত্তার জন্য উন্নয়ন প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় করে, তখন সেই অর্থের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। গোবিন্দপুরের ঘটনাটি তাই শুধু একটি স্থানীয় সমস্যা নয়; এটি উন্নয়ন প্রকল্পে মাননিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। জনগণের আস্থা রক্ষায় দ্রুত তদন্ত, দায় নির্ধারণ এবং টেকসই সংস্কারই হতে পারে এখন সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে