হাওরের উন্নয়নের সঙ্গে জাতির স্বার্থ জড়িত: বদিউল আলম

এফএনএস (একে কুদরত পাশা; দিরাই, সুনামগঞ্জ) : | প্রকাশ: ২৫ জুন, ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম
হাওরের উন্নয়নের সঙ্গে জাতির স্বার্থ জড়িত: বদিউল আলম

হাওরের টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং পৃথক হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবিতে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১১টায় সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক, সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “হাওরের উন্নয়নের সঙ্গে আমাদের জাতির স্বার্থ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। হাওরের মূল সমস্যা সুশাসনের অভাব। দুর্নীতি ও সমন্বয়হীনতা দূর করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে হাওরের অধিকাংশ সমস্যার সমাধান সম্ভব।”

তিনি বলেন, সরকারের একার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়। নাগরিকদেরও সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে। হাওরের উন্নয়নে বরাদ্দকৃত অর্থ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে ব্যয় করা হলে এর সুফল বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। ড. বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, সুনামগঞ্জের ১৯৩টি হাওরে চলতি মৌসুমে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে এবং প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়েছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাওরাঞ্চলের গুরুত্ব অপরিসীম। হাওর বিষয়ক পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, এতে কিছু প্রশাসনিক ব্যয় বাড়লেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে এবং হাওরের উন্নয়ন জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সুজন সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি নুরুল হক আফিন্দী। সঞ্চালনা করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম সাঈদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুজনের সহযোগী সমন্বয়কারী নেসার আমিন এবং জেলা কমিটির সহ-সম্পাদক কাজী নুরুল আজিজ চৌধুরী। সভাপতির বক্তব্যে নুরুল হক আফিন্দী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে হাওরাঞ্চলের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ অঞ্চলের মানুষ এখনও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। হাওরের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। মূল প্রবন্ধে ফজলুল করিম সাঈদ বলেন, হাওর দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, দেশীয় মাছের প্রজনন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু প্রতিবছর আগাম বন্যা, পাহাড়ি ঢল, নদী-খাল ভরাট, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, জলমহাল ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হাওর ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে হাওর নিয়ে একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থা কাজ করায় সমন্বয়ের অভাব, জবাবদিহিতার দুর্বলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই একটি স্বতন্ত্র হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করে সমন্বিত পরিকল্পনা, গবেষণা, বাজেট ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি। এ সময় হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, বিজ্ঞানভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলমহাল ব্যবস্থাপনার সংস্কার, প্রকৃত জেলেদের অধিকার নিশ্চিতকরণ, টাঙ্গুয়ার হাওর সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি এবং হাওরাঞ্চলের স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, হাওর শুধু একটি জলাভূমি নয়; এটি উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। তাই হাওর রক্ষা করা মানে দেশের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে