"শুধু বাহক নয়, মাদকের গডফাদারদেরও ধরতে হবে: ভূমিমন্ত্রী মিনু

এফএনএস (মোঃ আব্দুল বাতেন; গোদাগাড়ী, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ২৬ জুন, ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
"শুধু বাহক নয়, মাদকের গডফাদারদেরও ধরতে হবে: ভূমিমন্ত্রী মিনু

ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি বলেছেন, শুধু মাদক বহনকারীদের আটক করলেই হবে না, বরং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মূল হোতা ও গডফাদারদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। মাদকের ভয়াবহ ছোবলে দেশের অসংখ্য পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে এবং অনেক পরিবারের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) বেলা ১১টায় রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, “মাদক কারবারীরা দেশ, জাতি ও সমাজের শত্রু। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শুধু বহনকারীদের গ্রেপ্তার করে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। যারা এই অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত, প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে তারা দ্রুত জামিন পেয়ে আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়তে না পারে।” তিনি বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে বাইরে থেকে মাদক প্রবেশ করে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে মাদক পাচার হয়ে থাকে। সীমান্ত এলাকার অনেক মাদক কারবারী অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। “যাদের একসময় কিছুই ছিল না, তারাও এখন বিপুল সম্পদের মালিক। এসব মাদক কারবারীকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে,”বলেন তিনি। মো. মিজানুর রহমান মিনু আরও বলেন, “আমরা নিজের চোখে দেখেছি, মাদকের ভয়াবহ থাবায় কত পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। শুধু আইন প্রয়োগ করে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়; এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সমাজের প্রতিটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং মাদক কারবারীদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে।” মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন, দ্রুত অভিযান পরিচালনা করুন। এই সমাজে মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো স্থান হবে না।” একইসঙ্গে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, “একসময় এসিড সন্ত্রাস দেশের জন্য বড় অভিশাপ ছিল। কিন্তু সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তেমনি, আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগেই মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।” অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, মোহাম্মদ শাহজাহান, মোহাম্মদ ফয়জুল কবির, মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, অ্যাড. মো. এরশাদ আলী ঈশা এবং মো. আলী আসলাম হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাজী শহিদুল ইসলাম। আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি অন্যান্য অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে