ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর সর্বান্দিয়া পাটাদার ডাঙ্গী গ্রামের মৃত আবুল হোসেন খানের স্ত্রী পারভীন আক্তার (৪০) ও তার এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ে সালমা আক্তার তম্বী (১৮) কে এলোপাথারী পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে প্রতিপক্ষরা। আহতরা চরভদ্রাসন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তুচ্ছ ঘটনার জ্বের ধরে গত শুক্রবার বিকেলে প্রভাবশালী প্রতিপক্ষরা অসহায় পরিবারের মা-মেয়েকে পিটিয়েছে বলে অভিযোগ। আহতদের বাড়ীর পাশের প্রতিপক্ষরা হলো- মিজানুর রহমান (৩২) বাশার খান (৩০) কাশেম খান (৪০) কালাম খান (৩৬) ও নাজিম উদ্দিন খান (৬৫)। আহতদের বসতীয় ভিটের উপরে পুঁই শাক গাছের মাচা তৈরীর দ্বন্দ্বের জ্বের ধরে প্রতিপক্ষরা অসহায় ও এতিম পরিবারের উপর বর্বর হামলা করে মাদ্রাসা ছাত্রীর শ্লিলতাহানী ঘটিয়েছে বলেও অভিযোগ।
এ ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা চরভদ্রাসন খানার এএসআই জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, “ আহতরা থানায় একটি অভিযোগ পত্র দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্তধীন রয়েছে। এখনো মামলা হয় নাই। তবে প্রতিপক্ষরাও থানায় আরেকটি পাল্টা অভিযোগও দিয়েছেন বলে জানান তিনি”।
অসহায় পরিবারটি জানায়, পারভীন আক্তারের স্বামী মারা যাওয়ার পর এতিম দুই মেয়ে নিয়ে স্বামীর ভিটেয় ছোট্ট একটি ঘরে বসবাস করে আসছে। অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে কোনো মতে বেঁচে আছি পরিবারটি। ক’দিন আগে বসতভিটের উপর পুঁই শাক গাছের জন্য একটি মাচা পাতেন বিধবা পারভীন আক্তার। ঘটনার দিন বিকেলে প্রতিপক্ষরা এসে সেই পুঁই শাকের মাচা উঠিয়ে ফেলেন। এ সময় পারভীন আক্তার বাঁধা দিতে গেলে তার চুলের মুঠি ধরে টেনে হিঁচড়ে মাটিতে ফেলে এলোপাথারী কিল ঘুষি ও লাথী মারতে থাকেন প্রতিপক্ষরা। বিধবা পারভীন আক্তারের ডাক চিৎকারে তার এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ে মাকে বাঁচাতে ছুটে এলে প্রতিপক্ষরা উক্ত তরুনীকেও মাটিতে ফেলে কিল ঘুষি ও লাথি মেরে তাকেও গুরুতর আহত করেন। প্রতিপক্ষরা উক্ত তরুনীর পরনের জামা কাপড় টেনে হিঁচড়ে ছিড়ে ফেলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রতিপক্ষদের মধ্যে মিজানুর রহমান জানায়, “ওই মহিলারা আমাকেও মেরে আহত করেছে”। আর ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক প্রতিবেশী সুবাহান খান বলেন, “ প্রতিপক্ষরা এলাকার ডেঙ্গাইত প্রকৃতির লোক। তাই এলাকার অনেকেই প্রতিপক্ষদের সাথে মিশে না। ঘটনার সময় অসহায় ও এতিম পরিবারটির মহিলাদের উপর বর্বর হামলা করা হয়েছে”।