প্রথমার্ধে একের পর এক আক্রমণ করেও গোল মিসের মহড়া দেখিয়েছে ইংল্যান্ড। নকআউট নিশ্চিত হয়ে গেলেও পানামার বিপক্ষে প্রথমার্ধ শেষ করে গোলশূন্য সমতায়। পরে দ্বিতীয়ার্ধে ডেডলক ভাঙেন জুড বেলিংহ্যাম। এরপরই গোল করেন হ্যারি কেইন। তাতে তিনি ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যান গ্যারি লিনেকারকে টপকে। ২-০ ব্যবধানে জিতে গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে ইংলিশরা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধের খেলায় একের পর এক চেষ্টা চালিয়েও বারবার ব্যর্থ হয়েছে দুই দলই। পরে দ্বিতীয়ার্ধে গোল দুটি করেন জুড বেলিংহ্যাম ও হ্যারি কেইন। ম্যাচ জিতলেও প্রথমার্ধে ছিল একেবারেই হতাশার। একাধিক আক্রমণ করেও সম্ভব হয়নি গোল আদায় করা। ৮ মিনিটে প্রথমবারের মতো লক্ষ্যে শট রাখে ইংল্যান্ড। বাঁ প্রান্ত থেকে ভেতরে কেটে এসে জোরালো শট নেন মার্কাস রাশফোর্ড। তবে পানামার গোলরক্ষক মসকেরা নিচু হয়ে দারুণ সেভ করে বল ঠেকিয়ে দেন। এরপর কর্নার থেকে গোলরক্ষকের পাঞ্চ করা বল গিয়ে পড়ে বুকায়ো সাকার পায়ে। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি, তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ১৫ মিনিটে চমৎকার ছোট ছোট পাসে এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে কাটিয়ে আক্রমণে ওঠে পানামা। এতে রদ্রিগেজের সামনে শট নেওয়ার ভালো সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে তিনি তাড়াহুড়া করে ফেলেন, আর জুড বেলিংহ্যাম পা বাড়িয়ে বল ক্লিয়ার করে বিপদমুক্ত করেন ইংল্যান্ডকে। হাইড্রেশন ব্রেকের আগে মরগান রজার্স ও হ্যারি কেইনের চমৎকার বোঝাপড়ার খেলায় বক্সের ভেতরে শট নেওয়ার সুযোগ পান বুকায়ো সাকা। তবে তার নেওয়া শটটি পানামার ডিফেন্ডার ব্লক করে দেন। ৩৮ মিনিটে বক্সের ভেতরে বুকায়ো সাকাকে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে জোরালো পেনাল্টির আবেদন জানায় ইংল্যান্ড। তবে রেফারি খেলায় কোনো বাঁশি বাজাননি। এর কিছুক্ষণ পরই আরেকটি সুযোগ তৈরি করেন ইংলিশরা। মার্কাস রাশফোর্ড হেড নেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও শেষ মুহূর্তে পানামার এক ডিফেন্ডার বল ক্লিয়ার করে দেন। ফলে নিশ্চিত একটি সুযোগ হাতছাড়া হয় ইংল্যান্ডের। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে জর্ডান পিকফোর্ডের লম্বা পাস দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন হ্যারি কেইন। এরপর বক্সের ঠিক বাইরে তাকে ফাউল করা হলে ইংল্যান্ড পায় ভালো একটি ফ্রি-কিক। মার্কাস রাশফোর্ড ও বুকায়ো সাকা ফ্রি-কিক নিতে দাঁড়ান। শেষ পর্যন্ত শট নেন রাশফোর্ড। তার বাঁকানো প্রচেষ্টা অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ম্যাচে এটাই ছিল ইংল্যান্ডের সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়ে গোল মিস করার মুহূর্ত প্রথমার্ধে। দ্বিতীয়ার্ধের ৫২ মিনিটে শুরুতেই মার্কাস রাশফোর্ডের দারুণ এক ক্রস নিয়ন্ত্রণে নেন হ্যারি কেইন। তবে বলটি তার শরীরের সামান্য পেছনে চলে যাওয়ায় ঠিকমতো শট নিতে পারেননি। সেই সুযোগে পানামার ডিফেন্ডাররা ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ক্লিয়ার করে কর্নারের বিনিময়ে দলকে রক্ষা করেন। ৫৫ মিনিটে সুযোগ হাতছাড়া করেন রাশফোর্ডও। মাঝমাঠের কাছাকাছি বল হারায় পানামা। সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যান মার্কাস রাশফোর্ড। গতির জোরে বক্সে ঢ়ুকে জোরালো শট নিলেও বল জালে নয়, লাগে সাইডনেটে। ইংল্যান্ডের একের পর এক মিসের মহড়ায় ৫৭ মিনিটে প্রায় গোল পেয়েই গিয়েছিল পানামা। আবারও মাঝমাঠে চাপে পড়ে বল হারান এলিয়ট অ্যান্ডারসন। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে হোসে লুইস রদ্রিগেস বাঁ পায়ের শক্তিশালী শট নেন। তবে তার প্রচেষ্টা অল্পের জন্য গোলবারের ওপরের কোণ ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। অবশেষে ইংল্যান্ডের হয়ে ৬২ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন জুড বেলিংহ্যাম। কোয়ানসা চোট পেয়ে মাঠে পড়ে যাওয়ার আগে বক্সে দারুণ দৌড়ে ঢ়ুকে একটি কর্নার আদায় করেন জুড বেলিংহ্যাম। সেই কর্নার থেকেই আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। বুকায়ো সাকার উড়িয়ে দেওয়া কর্নার থেকে ডিফেন্ডারের চাপে থেকেও শরীর বাঁকিয়ে ভলিতে বল জালে পাঠান বেলিংহ্যাম। গোল করে উচ্ছ্বাসে মাতেন ইংলিশ মিডফিল্ডার। মিনিট পাঁচেক পর ম্যাচের ৬৭ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান হ্যারি কেইন। জুড বেলিংহ্যাম প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে গোললাইন পর্যন্ত গিয়ে দারুণ একটি ক্রস ভাসিয়ে দেন। সেই বল হেডে জালে জড়ান হ্যারি কেইন। এই গোলের মাধ্যমে গ্যারি লিনেকারকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেলেন কেইন। এটি বিশ্বকাপে তার ১১তম গোল। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংলিশরা। ৮৯ মিনিটে দারুণ এক থ্রু পাসে রক্ষণভাগ ভেঙে বল পান পানামার হোসে ফাখার্দো। এরপর তিনি বল জড়িয়ে দেন জর্ডান পিকফোর্ডের জালে। তবে তার আগেই এক গজ এগিয়ে যাওয়ায় অফসাইডের পতাকা ওঠে। ফলে গোলটি বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত কোনো গোলই করতে পারেনি পানামা। ফলে ২-০ ব্যবধানে জিতে গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে চলে গেছে ইংল্যান্ড।