‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

এফএনএস প্রতিবেদক: | প্রকাশ: ২৯ জুন, ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সোমবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় জানিয়েছেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও পানি সংকট নিরসনে ‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে।

নিজ বক্তব্যে দেশের অর্থনীতি, কৃষি, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি, শিক্ষা এবং জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সংসদ সদস্যসহ উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের পানি ও তিস্তা নিয়ে যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে, বর্তমান সরকার তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এর স্থায়ী সমাধানে বদ্ধপরিকর সরকার।

তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি সরকার বরাবরই কৃষি ও কৃষিবান্ধব সরকার এবং যখনই দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, মানুষের পানির অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে। বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে সারা বছর যেন কৃষকরা নিরবচ্ছিন্ন পানির সরবরাহ পান, সেজন্য সরকার ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।”

এর পরপরই তিস্তা প্রসঙ্গে অত্যন্ত জোরালো ভাষায় তিনি ঘোষণা করেন, জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইনশাআল্লাহ, এই সরকার যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।

কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নের লক্ষ্যে নদী ও খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক জায়গায় বর্ষাকালে পানি থৈ থৈ করলেও শুষ্ক মৌসুমে সামান্য দূরত্বের জমিতেও কৃষক সেচের পানি পান না। এই সংকট দূর করতে আগামী পাঁচ বছরে সমগ্র বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনর্খননের মহাপরিকল্পনা আছে সরকারের। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত মাত্র তিন মাসেই প্রায় ৯০০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পূরণের বিবরণ দিয়ে এরপর সরকারপ্রধান বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ কৃপায় সরকার গঠনের প্রথম সপ্তাহের প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষি ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া, কৃষকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দিতে একটি বিশেষ কার্ডের কাজ চলছে, যার মাধ্যমে প্রতি বছর কৃষকের কাছে সরাসরি আড়াই হাজার টাকা পৌঁছে যাবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা আরও ১০টি বিশেষ সুবিধা পাবেন এবং আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের প্রায় ৪৩ লাখ কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

ঐতিহ্যগত শিল্পের বাইরে চলচ্চিত্র, থিয়েটার, সংগীত, ওটিটি, ডিজিটাল কনটেন্ট, গেমিং, ফ্যাশন ও সফটওয়্যারের মতো উদীয়মান খাতগুলোকে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ হিসেবে অর্থনীতির মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসার ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই খাতের মাধ্যমে দেশের ভেতরে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

একইসঙ্গে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে শক্তিশালী করতে দেশে-বিদেশে সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড়দের জন্য প্রথমবারের মতো একটি ‘জাতীয় সম্মানী কাঠামো’ চালু করার কথা জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, খেলাধুলাকেও যেন তরুণ প্রজন্ম একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারে, সেজন্য আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের মূল শিক্ষা কারিকুলামে ‘স্পোর্টস’ বা খেলাধুলাকে একটি স্বাধীন বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে। শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চালু করা ঐতিহাসিক ‘নতুন কুঁড়ি’র আদলে খেলাধুলার জন্য একটি নতুন স্পোর্টস ভার্সন চালু হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বৈশ্বিক শ্রমবাজারে আরও বেশি সংখ্যক দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে নতুন নতুন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। প্রবাসীরা দেশে ফিরলে বা প্রবাসে থাকাকালীন যেসব প্রাত্যহিক সমস্যার মুখোমুখি হন, সেগুলো থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি বা রিলিফ দিতে সরকার একটি যুগান্তকারী ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ওপর কাজ করছে।

এরপর জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিগত সরকার শুধুমাত্র নিজেদের রাজনৈতিক ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে দেশীয় অনুসন্ধান অবহেলা করে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে সুবিধা দিয়ে জ্বালানি খাতে সীমাহীন দুর্নীতি করেছে, যা জানলে গা শিউরে ওঠে। আমদানি-নির্ভর জ্বালানির ঝুঁকি এড়াতে বর্তমান সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও রিনিউবল এনার্জি (নবায়নযোগ্য জ্বালানি) সম্প্রসারণের মাধ্যমে জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে