পুঠিয়ায় জুন সমন্বয়কে কেন্দ্র করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভুতুড়ে বিলে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যুৎ বিল বিষয়ে কর্মকর্তাদের অভিযোগ দিলে তারা বিল কমানোতো দুরের কথা বরং গ্রাহকরে বিভিন্ন রকম অযৌক্তিক কথাবার্তা বলে বিদায় করছে। নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর পুঠিয়া জোনাল অফিসে বর্তমানে গ্রাহক সংখ্যা ৭৬ হাজার রয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ অফিস প্রতিমাসে উন্টাপান্টা ভুতুড়ে বিল করে আসছে। এই নিয়ে প্রতিদিন বিল কমানো এবং সংশোধন করার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে শত শত গ্রাহকরা জমায়েত হচ্ছেন। কেউ আবার মৌখিক ভাবে ডেপুটি জোনাল ম্যানেজার কিংবা বিল প্রস্তুতকারি প্রধানকে বিলের ব্যাপারে বলছেন। কিন্তু তারা গ্রাহকদের বিল বেশির ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করছেন না বরং খারাপ ব্যবহার করার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। জুন সমন্বয়কে কেন্দ্র করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জুন মাসে ৭০%-৮০% অতিরিক্ত বিল করে,যার ফলে গ্রাহকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। পুঠিয়া সদর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সহকারি অধ্যাপক সেলিম রেজা বলেন, গত দশ মাসের তার গড় বিল ছিল ১৭০ ইউনিট সেখানে জুন মাসের বিল এসেছে ২৯০ ইউনিট। অতিরিক্ত ১২০ ইউনিট বিদ্যুৎ বিল তৃতীয় স্লাব যা ৯.১০ টাকা হারে প্রদান করতে হবে। যার ফলে গ্রাহক ক্ষতির সম্মুখিন হবে। একই অভিযোগ করে আবুহেনা বলেন, তার গত দশ মাসের তার গড় বিল ছিল ১২২ ইউনিট সেখানে জুন মাসের বিল এসেছে ২৩০ ইউনিট। অতিরিক্ত ১০৮ ইউনিট বিদ্যুৎ বিল তৃতীয় স্লাব যা ৯.১০ টাকা হারে দিতে হবে। সেলিম রেজা আরো বলেন, গ্রাহকের বিল পাওয়ার পরে পরিশোধের জন্য অন্তত সাত কর্ম দিবস সময় পাওয়ার কথা থাকলেও গ্রাহককে বিল দেওয়া হচ্ছে মাত্র তিন/চার দিন সময় হাতে রেখে। ফলে প্রায়শই গ্রাহকেরা সঠিক সময়ে বিল পরিশোধ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। পরবর্তীতে জরিমানাসহ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ অনেক সময় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছেন। এছাড়া পল্লী বিদ্যুৎ দীর্ঘদিন ধরে তারা মিটার ভাড়া,সার্ভিস চার্জ,সিষ্টেম লসসহ বিভিন্নরকম বিলের ভিতরে বসায়ে গ্রাহকদের লুটপাট করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের মতে প্রতিদিন কয়েক শত বিদ্যুৎ গ্রাহকরা ভুতুরে বিল কমানো জন্য বিদ্যুৎ অফিসে আসছেন। কিন্তু বাধ্য হয়ে সবাইকে ভুতুরে বিল দিতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে পুঠিয়া ডেপুটি জোনাল ম্যানেজার আহসানুল করিম বলেন, গ্রাহক বিদ্যুৎ বেশি ব্যবহার করলে বেশি বিল দিতে হবে। এছাড়া মিটার রিডিং গ্রহনে ভুল হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অফিসে এসে বিল সমন্বয় করতে হবে। প্রতিদিন বিল কমানো এবং সংশোধন করার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বহু গ্রাহকদের জমায়েত হওয়ার বিষয়টি তিনি স্বাীকার করেন।