"আপনার স্বাস্থ্য আমাদের অঙ্গীকার" এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে বাগেরহাটের শরণখোলায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় প্রায় ১৬ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই ভিটামিন খাওয়ানোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অর্পিতা হালদার। স্বাস্থ্য বিভাগের সচেতনতামূলক প্রচারণা ও স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিকতার কারণে ৯৮ ভাগ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো সম্ভব হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ইপিআই টেকনিশিয়ান ফরিদ আহমেদ জানান, ৬ থেকে ১১ মাস বয়স পর্যন্ত ১ হাজার ৬৭০ জনকে নীল ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস পর্যন্ত ১৪ হাজার ৪০০ শিশুকে লাল ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৯৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে আজ ২৮ জুন দিনব্যাপী এই ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে; যা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নীল ক্যাপসুল ১ হাজার ৬৭০ জনের মধ্যে ১ হাজার ৬১৭ জনকে এবং লাল ক্যাপসুল ১৪ হাজার ৪০০ জনের মধ্যে ১৪ হাজার ১১৯ জনকে খাওয়ানো হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয় গোপাল বিশ্বাস ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো কর্মসূচি সফল করতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ১৭টি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আলী হোসেন ও ইপিআই টেকনিশিয়ান ফরিদ আহমেদ। পরিদর্শনকালে উত্তর কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যে কাব স্কাউট ইউনিট লিডার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে কাব শিক্ষার্থীরা শিশুদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সহায়তা প্রদান করায় তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয় গোপাল বিশ্বাস বলেন, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সার্বিক সহযোগিতায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো সফল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শরীরে ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি পূরণ করতে ব্যবহৃত হয়। নীল ক্যাপসুল ১ লাখ ইউনিট ক্ষমতাসম্পন্ন ও লাল ক্যাপসুল ২ লাখ ইউনিট ক্ষমতাসম্পন্ন, যা শিশুদের রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এটি দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক রাখতে এবং শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তবে নিয়মের অতিরিক্ত খেলে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা ক্ষতি হতে পারে।