ঢাকার জলাবদ্ধতা কমাতে ১০৮ হটস্পট চিহ্নিত, আসছে নতুন ২ আউটলেট

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৩০ জুন, ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
ঢাকার জলাবদ্ধতা কমাতে ১০৮ হটস্পট চিহ্নিত, আসছে নতুন ২ আউটলেট
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে নতুন পানি নিষ্কাশন আউটলেট নির্মাণ, খাল পুনরুদ্ধার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ১০৮টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ হটস্পট চিহ্নিত করেছে। এসব এলাকায় স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কাজ চলছে। পাশাপাশি ১০টি অঞ্চলে ২১টি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। এসব দল নিয়মিত পিট, ক্যাচপিট, ড্রেনেজ লাইন ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা পরিষ্কার করছে। তার ভাষায়, “এসব কার্যক্রমের ফলে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দ্রুত কমে এসেছে।”

মন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিএনসিসি ১১০ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার রাস্তা এবং ১০৫ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়ন করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও ১১৫ কিলোমিটার রাস্তা এবং ১২০ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে ৩৬০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়মিত কাজ করছেন। ২৯টি খাল ও একটি রেগুলেটিং পন্ডের সীমানা নির্ধারণের পাশাপাশি ১ হাজার ১৮১টি সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে, যাতে অবৈধ দখল ঠেকানো যায়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কার্যক্রম তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমানে কমলাপুর টিটিপাড়া, ধোলাইখাল ও হাতিরঝিলের তিনটি আউটলেট দিয়ে ১০৯ দশমিক ২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করা হয়। তবে এটি প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। এ কারণে আরও দুটি নতুন আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে মেট্রো ঢাকা রেজিলেন্স প্রকল্পের আওতায় গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত একটি নতুন বৃহৎ আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে শ্যামপুর খালের পানি দ্রুত বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রবাহিত করতে বক্স কালভার্ট ও ৮ ফুট ব্যাসের বড় নর্দমা নির্মাণকাজও চলছে।

ডিএসসিসি এলাকায় নিউমার্কেট, নাঈম রোড, গ্রিন রোড, শান্তিনগর, মুগদা মেডিকেল, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, মাজেদ সরদার রোড ও পশ্চিম মালিবাগসহ ৩৩টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এসব এলাকায় ২২টি খাল পরিষ্কার ও পুনঃখনন, চারটি বক্স কালভার্ট পরিষ্কার এবং ওয়ার্ডভিত্তিক নর্দমা পরিষ্কারের কাজ চলছে। জলাবদ্ধতা দেখা দিলে দ্রুত পানি সরাতে ছয়টি পোর্টেবল পাম্পও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, “রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্মাণ, খাল পুনরুদ্ধার এবং নিয়মিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ, সব কার্যক্রম সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে