ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ

স্বাস্থ্য খাতের সংকট ও করণীয়

এফএনএস | প্রকাশ: ১ জুলাই, ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
স্বাস্থ্য খাতের সংকট ও করণীয়

জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর উপস্থাপিত তথ্য দেশের স্বাস্থ্য খাতের বাস্তব চিত্রকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার নতুন ক্যান্সার রোগী শনাক্ত হওয়া এবং ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি মানুষের ক্যান্সারে মৃত্যু শুধু একটি রোগের ভয়াবহতাই নয়, বরং প্রতিরোধ, আগাম শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার দিকেও ইঙ্গিত করে। একই সঙ্গে চিকিৎসক সংকট, অচল চিকিৎসা যন্ত্র, সরকারি হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তার-সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সরকার বিভাগীয় পর্যায়ে ক্যান্সার চিকিৎসা ইউনিট স্থাপন, নতুন কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ এবং এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি ও সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, শুধু প্রকল্প ঘোষণা নয়, সময়মতো বাস্তবায়ন এবং সেবার মান নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। উদ্বেগের বিষয় হলো, সরকারি হাসপাতালগুলোতে হাজার হাজার চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। একই সঙ্গে শত শত চিকিৎসা যন্ত্র অকেজো থাকায় রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা বিলম্বিত হচ্ছে। রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যার তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকার তথ্যও স্বাস্থ্য অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপেরই প্রতিফলন। এতে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর যেমন চাপ বাড়ছে, তেমনি রোগীরাও কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি ভবিষ্যতের জন্য আরও বড় উদ্বেগের বিষয়। অযৌক্তিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা এবং তদারকির ঘাটতি অব্যাহত থাকলে সাধারণ সংক্রমণও জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ওষুধ ব্যবহারে কঠোর নীতিমালা কার্যকর করা জরুরি। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন কেবল নতুন হাসপাতাল নির্মাণ বা অবকাঠামো সম্প্রসারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রয়োজন দক্ষ জনবল, সচল চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, কার্যকর ব্যবস্থাপনা, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসন। পাশাপাশি ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা, নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা একটি মৌলিক নাগরিক অধিকার। সংসদে উপস্থাপিত পরিসংখ্যান শুধু সমস্যার চিত্র তুলে ধরার জন্য নয়; এগুলোকে কার্যকর নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করাই হবে সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে