দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার উপজেলা সদরসহ ২২টি হাট-বাজার ও বিভিন্ন মোড়ের দোকানে হাত বাড়াইলে পাওয়া যাচ্ছে এল.পি.জি গ্যাস সিলিন্ডার। প্রশাসনের তদরকি না থাকায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিক্রি হচ্ছে দেদারছে এই গ্যাস সিলিন্ডার। সরকারি নীতিমালা অনুসারে প্রাথমিক সনদের পাশাপাশি বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ এবং অগ্নি নির্বাপক কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ছাড়া এসব গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় অনুমোদন না থাকলেও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনেকই তা মানছে না। এছাড়া নিম্নমানের রেগুলেটর ও পাইপ বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। বহুল ব্যবহৃত এই সিলিন্ডার গ্যাস সহজলভ্য হওয়ায় যেখানে সেখানে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। অধিক মুনাফায় মেয়াদ উত্তীর্ণ ও নিম্নমানের গ্যাস সিলিন্ডার এমনকি কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে এই সিলিন্ডার। ঝুকিপূর্ণ এলাকায় বিক্রি হচ্ছে গ্যাসের সিলিন্ডার। কয়েক বছরের তুলনায় এল.পি.জি সিলিন্ডারের ব্যবহার বেড়েছে কয়েকগুণ। কাহারোল উপজেলার পল্লী অঞ্চলে এই গ্যাস ব্যবহৃত হলেও মানুষ জানে না সিলিন্ডারের গ্যাস ব্যবহারের নিয়মনীতি। সরকারি নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে চলছে এই ব্যবসা। এই সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অনেকর নেই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং অগ্নিনিরোধক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দূর্ঘটনা ঘটলে নেই কোন প্রতিকারের ব্যবস্থা। অপরদিকে গ্যাসের চাহিদা বাড়ায় বাজারে কোম্পানিগুলো তাদের প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায় নেমেছেন। বাজার ধরতে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যেখানে সেখানে গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে।
দিনাজপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর জানান, লাইসেন্স বা অনুমোদন ছাড়া এল.পি.জি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি এবং মজুদ করার অপরাধে স্থানীয় প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালত ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে আসছে। কাহারোল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মোঃ রেজাউল করিম জানান, সড়কের পাশে সাজিয়ে রেখে এল.পি.জি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা খুবই বিপদজনক। এছাড়া যত্রতত্র দাহ্য পদার্থ বিক্রির কারনে ভয়াভয় অগ্নিকান্ডসহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। জ্বালানি ও বিস্ফোরক অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এল.পি.জি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ও মজুদ রাখতে হলে ব্যবসায়ীকে অবশ্যই বিস্ফোরক সনদ নিতে হবে। সনদ ছাড়া ব্যবসা কোন ভাবেই বৈধ নয়। কাহারোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোকলেদা খাতুন মীম জানান, সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট ইশতিয়াক আহমেদ নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা অব্যহত রেখেছেন।