হারারে টেস্টে বেহাল দশা বাংলাদেশের। জিম্বাবুয়ের সাথে বিন্দুমাত্র লড়াই করতে পারেনি টাইগাররা। মাত্র আড়াই দিনের মাথায় ইনিংস এবং ৮৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে গেছে বাংলাদেশ দল। ব্যাট হাতে একদমই লড়তে পারেনি বাংলাদেশ। বোলাররাও ছিলেন একেবারেই বিবর্ণ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে কিছুটা পরীক্ষানিরীক্ষা করে দল সাজিয়েছিল বাংলাদেশ। যে কারণে মূল দলের অনেকেই ছিলেন না। তবুও এমন হার মেনে নেওয়ার মত নয়। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড গড়েছে জিম্বাবুয়ে। একেবারেই লড়াই করতে পারেনি বাংলাদেশ। খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে দলের পারফরম্যান্সের ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। ব্যাটিং নিয়ে হতাশাই ঝরেছে সিমন্সের কণ্ঠে। সংবাদ সম্মেলনে সিমন্স বলেছেন, ‘অনেক কিছুই ভিন্নভাবে করা যেত। আমার মনে হয় ম্যাচের প্রথম দুই ঘণ্টায় আমরা ম্যাচে ছিলাম। তবে লাঞ্চ এবং চা বিরতির সময়টাতেই আমরা ম্যাচটা হেরে গেলাম। যেভাবে ব্যাট করেছি, তাই হারিয়ে দিতে যথেষ্ট ছিল। আমাদের তখন ব্যাটিংয়ে আরও ডেডিকেশন দরকার ছিল। তাহলে হয়ত ম্যাচটা আরও ভালো যেত। তবে কিছুই হলো না।’ সিমন্স আরও বলেছেন, ‘আসলে বোর্ডে তো আগে রান তুলতে হবে। যদি ভালো ব্যাট করতে না পারেন, ভালো রান না পান তাহলে বোলাররাও তো বল করতে পারবে না। যেসব উইকেটে আমরা খেলে এসেছি সেখান থেকে এখানের উইকেট কিছুটা ভিন্ন। ফলে আমাদের বুঝতে হবে এসব উইকেটে কীভাবে ব্যাট করতে হয়। নিশ্চিত করতে হবে আমরা ভালোভাবে ব্যাট করতে পারছি।’ ফিল সিমন্স জানান, ‘তারা (জিম্বাবুয়ে) ভালোভাবে ব্যাট করেছে। হোমে খেললে এমনই হয়। কন্ডিশনটা তারা ভালোই জানে। সব মিলিয়ে তাদের ভালো একটি ম্যাচ গেছে, আমাদের তুলনায়।’ দলের আত্মবিশ্বাস প্রসঙ্গে সিমন্স জানিয়েছেন, ‘আমরা এখনও অনেক আত্মবিশ্বাসী আছি। যদিও ম্যাচটা হেরেছি তবুও আমাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস আছে। আমরা টানা ৫ টেস্ট জিতেছি। ভালো আত্মবিশ্বাস আছে। এক হারেই সেসব বদলে যাচ্ছে না। এই ম্যাচে ভালো করিনি তাই হেরেছি। তবে এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে মুভ অন করতে হবে। আমাদের ভুলই আমাদেরকে ভুগিয়েছে। জিম্বাবুয়ে ভালো খেলেছে। তবে আমরা অনেক ভুল করেছি। এগুলো হজম করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’ জিম্বাবুয়ে দলকে নিয়ে সিমন্স বলেন, ‘আমি এখানে ছিলাম অনেক আগে, অবশ্যই কিছু পরিবর্তন তো এসেছে। জিম্বাবুয়ে ভালো জায়গায় বল করেছে লম্বা সময় ধরে, আমাদের তুলনায়। ব্যাটাররা ধৈর্য ধরে রান তুলেছে। এভাবেই টেস্ট ক্রিকেটটা খেলতে হয়, তারাই আমাদের দেখিয়ে দিল।’ নিউম্যান নিয়ামহুরির বোলিং প্রসঙ্গে ফিল সিমন্স জানিয়েছেন, ‘তার বলে দারুণ শক্তি রয়েছে। এগুলোই বেশি দরকার। সে নিজের কাজটা করে দিয়েছে যা তার কাছে প্রত্যাশা ছিল।’ প্রধান কোচ আরও বলেছেন, ‘আমাদের ব্যাপারে বললে আমরা চেয়েছি ফাইট করে যেতে। চেয়েছি ফাইট করে যতটা ভালো করা যায়। যেন ভালো জায়গায় আসতে পারি আমরা। তবে প্রত্যাশামত হয়নি। আমার সবসময় ভালো লাগে জিম্বাবুয়েতে। এখানে ফিরে ভালোই লাগছে। দারুণ কিছু স্মৃতি রয়েছে এখানে। ফলে ভালোই লাগছে ফিরতে পেরে।’ একমাত্র টেস্ট শেষে ৩টি করে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টির লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ে এবং বাংলাদেশ। আগামী সোমবার মাঠে গড়াবে প্রথম ওয়ানডে।