রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের খলেয়া নন্দরাম প্রামানিকপাড়ায় নুরনাহার (২৪) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে নুরনাহার নিজ বাড়ির শয়নকক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে রাখেন। এ সময় বাড়ির বাইরে থাকা তাঁর ৫ বছর বয়সী ছেলে কান্নাকাটি শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত তিন থেকে চার দিন ধরে নুরনাহারের সঙ্গে তাঁর শাশুড়ির পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এলাকাবাসীর ধারণা, ওই বিরোধের জেরেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
নুরনাহার (২৪) উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের হাড়িয়ারকুঠি মণ্ডলপাড়া গ্রামের নজরুল মণ্ডল (নজু)-এর মেয়ে। তাঁর স্বামী মনোয়ারুল ইসলাম খলেয়া নন্দরাম প্রামানিকপাড়ার বাসিন্দা। তাঁদের সংসারে ৬ বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। মায়ের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে দুই পরিবারের পরিবেশ। এ ঘটনায় এলাকায়ও নেমে আসে শোকের ছায়া। তারাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।